আমেরিকার গ্রন্থাগারের উত্থিতির বিবরণ
আমেরিকার শিক্ষায় সমান সুযোগসুবিধা দেবার প্রতিশ্রুতি, সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি ক্রমাগত আস্থা, চিন্তা ও বাক্য-স্বাধীনতার প্রতি জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারে বিশ্বাস, কর্মসংস্থানেরগত সমস্যা বৃদ্ধির জন্য ক্রমাগত উদ্বেগ এবং সূত্র শান্তি ও উন্নতির প্রয়াস ইত্যাদি কারণে গ্রন্থাগার আন্দোলন শুরু হয়।
আর্থিক সামর্থ্য ও ইউরোপীয় দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাবে অনুপ্রেরণা নিয়ে শেয় প্রথম গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা হয় যেখানে বিনমূল্যে সকলনকে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়। আমেরিকায় আটলান্টিক সাগরের পারে প্রথম বসতি স্থাপন ও আমেরিকার বিভাগের মধ্যবর্তী সময়ের dextrose বছরের মধ্যে গ্রন্থাগার আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল।

নতুন ইংল্যান্ডের পিওরিটেনদের নেতা বৈচিত্র্যতা স্বীকার করেন না তবু তাদের সন্তানদের শিক্ষার ব্যাপারে তারা তীব্র আগ্রহী—যাতে তাদের সকলে বাইবেল পড়তে পারে। জন হার্ভার্ডের সম্পত্তির উইল থেকে আমেরিকার প্রথম কলেজ ও প্রথম গ্রন্থাগার স্থাপিত হয় ১৬৩৭ খ্রি। সে শতাব্দীতেই নতুন ইংল্যান্ডের কয়েকটি শহরে কিছু পুস্তক ভাবে গড়ে ওঠে। এসব ব্যক্তিগত সংগ্রহ আমেরিকার গ্রন্থাগারের উত্থতিতে সহায়তা করে।
এভাবে আমেরিকার প্রথম যুগের আবসিকদের তাদের ভবিষ্যৎয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞানের বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারের মাধ্যমে শুরু হয়। তারপর বিভিন্ন ধরনের সামাজিক গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয়। এসব সামাজিক গ্রন্থাগারের মাধ্যমে আমেরিকার প্রথম প্রথম গ্রন্থাগার আন্দোলন গড়ে উঠতে থাকে।
ইংল্যান্ডের মেকানিক প্রতিষ্ঠানের ধারায় আমেরিকায় ব্যবসায়ীদের গ্রন্থাগারই (mercantile libraries) ছিল প্রথম
জনপ্রিয় গ্রন্থাগারদের মধ্যে অন্যতম। ইংরেজি হল আমেরিকার গ্রন্থাগারের আদিরূপ।
সাধারণ গ্রন্থাগারের আদিরূপ
নতুন বিশ্বের ঔপনিবেশিকদের বই পড়ার সময় ছিল না। নতুন পরিবেশে টিকে থাকার জন্য গৃহনির্মাণ, জঙ্গল অপসারণ, বীজ বোনা, ফসল আবাদ করার কাজেই তাদের সময় কেটে যেত। তাঁদের সংস্কৃতি চর্চা হতে মুখো মুছে।
তা সত্ত্বেও ইউরোপের তুলনায় এসব নতুন অভিষেদের মধ্যে দ্রুত শিক্ষা বিস্তারের হয় এবং গ্রন্থাগার গড়ে উঠতে শুরু করে। প্রথমদিকের বৈচিত্র্যময় পুস্তক সংগ্রহ ব্যক্তিগত উদ্যোগে হয়েছিল। ক্যাপ্টেন রবার্ট ক্যানিয়ার (Robert Keanyne) ইউইনের মাধ্যমে যাকে প্রথম সাধারণ গ্রন্থাগার বলা যায়, তার প্রথম প্রতিষ্ঠা হয় বোস্টনে (মার্চ ২৩, ১৬৫৫/৫৬ খ্রি)।
তিনি একটি সাধারণ কৃষক গৃহ নির্মাণের জন্য ৩০০ পাউন্ড দান করেন যার মধে গ্রন্থাগারের জন্য একটি ঘর দিতে হবে। গ্রন্থাগারের প্রথম সংগ্রহ হিসাবে তিনি তার নিজস্ব পুস্তক দান করেন। এই গ্রন্থাগারটি প্রায় ১০০ বছর ধরে degenerate সংগ্রহের সেবা করে।
১৭শ শতাব্দীর শেষ দিকে একজন অ্যাংলিকান পাদ্রি ইংরেজ উপনিবেশ ম্যাসাচুসেটস থেকে দক্ষিণ ক্যারোলাইনার মধ্যে অনন্যগুলি গ্রন্থাগার স্থাপন করেন। তিনি সাধারণ মানুষের ধারের ঘরে বই দিতেন এবং এভাবে মারিলাইতে একটি কাজ চালানো গ্রহে ছোট গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলেন।
১. সামাজিক গ্রন্থাগার :
আমেরিকার উপনিবেস, বিশেষ করে ভার্জিনিয়াতে কতগুলি ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার ছিল। আর তাদের পরিচালনার জন্য ব্যয়ভার শুধুমাত্র ধনীদের কাছ থেকেই নেওয়া হত এবং বাইরে আরও অধিক সংখ্যক লোকগণ পাঠের সুযোগ দ্বারা যত্ন প্রতিনিধির প্রয়োজন দেখা দিল। এই প্রয়োজন মেটাবার জন্য ইংল্য্যান্ডের ‘বুক ক্লাব’ এবং গ্রন্থাগারীদের গ্রন্থাগারে মতো সামাজিক গ্রন্থাগারের প্রথাটি প্রতিষ্ঠিত হল।
পেনসিলভেনিয়ার একজন উৎসাহী মুক জেমিনন ফ্রুকলিন একজন সামাজিক গ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠার একজন পথিকৃৎ। তিনি ফিলাডেলফিয়ার গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠান কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন এবং সদস্যদের ‘শেয়ার’ কেনার আহ্বান জানন। তিনি প্রতিনিধিত দেন যে এই অর্থ সব বই কেনা হবে যা সকলরের দ্বারা লাভ হবে।
কোপারিয়ার মালিকানার পরিপাটোতা অনুযায়ী সামাজিক গ্রন্থাগারের ধরন হয়েছিল। অনেকেই তাদের শেয়ার বিক্রি করেছিলেন : শেয়ার যাদের হাতে তাইদের চাঁদা বিনিময়ে গ্রন্থাগারের পরিবারে নিয়োগ নিতে আহ্বান জানানো হয়েছিল। এভাবে আমেরিকায় চক্র দ্বারা পরিচালিত গ্রন্থাগারের প্রথা প্রতিষ্ঠিত হয়।
অনেকে তাদের সংগ্রহে জন সাধারণ ও সাম্যোৎকৃষ্ট সংগ্রহের করবেন এবং উচ্চ সংগ্রহ মূল্য ধর্মে অন্য ধরনের সাহিত্যিক অতন্বনের আয়োজন করে ‘Atheaums’ নামে পরিচিত হন। চতুর্থ রকমের সামাজিক গ্রন্থাগার হল ‘মেকানিকস’ বা ‘ম্যাকিনটশিল’ গ্রন্থাগার যেগুলি ধনী ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরদের জনসাধারণের কাজের ফলে গড়ে উঠেছিল। এইসব গ্রন্থাগারগুলি ব্যবসা ও শিল্পপতিরদের প্রশিক্ষণের শিক্ষা ও বিনোদনমূলক পাঠের আয়োজন করে।
২. বিদ্যালয় জেলা গ্রন্থাগার :
১৮৩০-এর দশকে বিদ্যালয় জেলা দ্বারা গ্রন্থাগারের প্রথম আবির্ভাব হয়। নিউ ইয়র্কের গভর্নর প্রথম এ ধরনের গ্রন্থাগারের কথা চিন্তা করেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ধরনের গ্রন্থাগার গড়ে উঠবে এবং বিনা অর্থ ব্যয়ে জনসাধারণ সেগুলি ব্যবহার করতে পারবেন । ১৯৩৭ সালে নিউ ইয়র্কের বিধানসভা একটি আইন পাশ করে গ্রন্থাগারের ব্যয় নির্বাহ করার জন্য বিদ্যালয় জেলাকে কর আদায়ের অধিকার দেয়।
বিদ্যালয়ের প্রতি সংগ্রহের জন্য জনগণের অর্থ ব্যয় হবে এবং সেই সব বই জনগণের ও ছাত্রদের ব্যবহারের জন্য দেওয়া হবে। বইয়ের বেহিসাবি নির্বাচন ও জনগনের প্রবেশের পথে বাঁধার ফলে এই পরিকল্পনা সফল হয়নি। তবে অত্যন্ত গ্রন্থাগারের প্রতি জনসন্দর্নের দৃষ্টি স্থাপিত হয়।
৩. অনারকম সাধারণ গ্রন্থাগারের পূর্বসূত্র :
সামাজিক গ্রন্থাগারের সংগৃহীত অন্য ধরনের গ্রন্থাগারগুলি এল এবং sebagainya ভিন্ন ধরনের উদ্দেশ্যে স্থাপন করেছে। রবিবারের বিদ্যালয় গ্রন্থাগারে ধর্মীয় ভাবধারার বই ছিল বেশি। সেগুলি মানুষের কাজে উৎসাহ বৃদ্ধি করার জন্য রাখা হত। কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান শিক্ষানবিশদের জন্য গ্রন্থাগারের ব্যবস্থা করেছিল। সেখানে প্রশিক্ষণের শিক্ষার্থীদের ও সেই সঙ্গে মনোরঞ্জনের জন্য পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলার প্রয়াস ছিল।