প্রস্তাবনা
একটি আদর্শ রাষ্ট্রের জন্য চাই আদর্শ নাগরিক, কিন্তু নাগরিকদের মনে আদর্শের বীজ বপন করার জন্যরাষ্ট্রকে শিক্ষা বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে গ্রন্থাগারের অন্তর্জাল বিস্তার করা দরকার। কিন্তু গ্রন্থাগারের বিস্তার ঘটাবার জন্য চাই উপযুক্ত গ্রন্থাগার আন্দোলন।
গ্রন্থাগার আন্দোলন বলতে অবশ্যই শুধুমাত্র কিছু বিচ্ছিন্ন গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা বোঝায় না। গ্রন্থাগার আন্দোলন হল, রজননাথনের মতে, “একটি সুসংগতিক গ্রন্থাগারের অন্তর্জাল প্রতিষ্ঠা ও সুতুভাবে পরিচালনার মাধ্যমে কার্যকর রাখা বোঝায়।”

বস্তুরবে গ্রন্থাগার আন্দোলনের ধারণা আমাদের জাতীয় চেতনা বৃদ্ধি, জাতীয় কংগ্রেসের কারুশিল্প ও স্বদেশী আন্দোলনের সঙ্গে কৃষি ও ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণের একত্রিক্ত প্রেরণা থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
প্রাচীন ও মধ্যযুগের ভারতে প্রকৃত অর্থে কোনোরকম সাধারণ গ্রন্থাগার ছিল না। শিক্ষার ক্ষেত্রে মৌখিক শিক্ষার প্রচলন ছিল। ধর্মীয় ও দার্শনিক শিক্ষাকেন্দ্রগুলির অবশ্যই নিজস্ব গ্রন্থাগার ছিল। মধ্যযুগের শাসকেরা গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার জন্য যত্ন করেছিলেন।
খ্রিষ্টান মিশনারিরা কয়েকটি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৬৯০ খ্রি. থেকে কলকাতা ইংরেজ উপনিবেশের একটি অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হতে থাকে। অনেক সংখ্যক ব্রিটিশ লোকের বসবাস শুরু হবার পর ভ্রমণামন ও গ্রাহক ঠাঁইকার গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা হতে থাকে।
অনেক লোকেরা প্রাচ্য শিক্ষার বিষয়ে আগ্রহ দেখাতে থাকে। ১৭৮৪ খ্রি. সোসাইটির জন্ম হয়। ১৮৩৬ খ্রি. কলকাতার সাধারণ গ্রন্থাগার জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ১৮৬৭ খ্রি. ভারত সরকার প্রেস ও পুস্তক পঞ্জীকরণ আইন (Press and Registration of Books Act) পাশ করেন। এরপর Imperial Library Act পাশ করেন।
এরপর Imperial Library Act পাশ হয় ১৯০২ খ্রি. দীর্ঘদিনের বাধাবিপত্তির পর কলকাতা সাধারণ গ্রন্থাগারে সরকারি নিয়ন্ত্রণ কায়েম করা হয় ১৯০৩ খ্রি. এবং তদানুযায়ী Imperial Library-কে ১৯৪৮ খ্রি. জাতীয় গ্রন্থাগার হিসাবে নামকরণ করা হয়।
সাধারণ পাঠাগার আন্দোলনের ইতিবৃত্ত
একটি প্রতিষ্ঠান সাধারণ পাঠাগার পাঠাগার আকারে প্রথম সাধারণ পাঠাগার গ্রন্থাগার হবার দাবি করা হয়, সেটি হল কেন্দ্রমাতা সাধারণ পাঠাগার। এটি ১৮৬০ খ্রি. মধ্যাহ্নে গঠন করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে ১৯৫০ খ্রি. রাজা-কৌটিয় গ্রন্থাগারে পরিণত হয়। ১৯০৩ খ্রি. ৩০ শে জানুয়ারি ইম্পিরিয়াল গ্রন্থাগারটিকে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
কিন্তু ১৯০৬ খ্রি. তৎকালীন বর্মা প্রশাসক মহারাজা সারাউ গাওকোয়ারেক সাধারণ পাঠাগারকে এক আন্দোলনের হিসেবে শুরু করেন বলে জানা যায়। তিনিই প্রথম তাড়াতাড়ি শাসক যিনি ১৯০৭ সালে বড়োবারার প্রথম পাঠাভীমূলক প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুনলেস সময়ে তিনি অধিকারে সাধারণ গ্রন্থাগার ব্যবস্থা দেশে খুবই অনুপ্রাপ্তি উৎসাহিত লিখেছেন। আধুনিক ধারার গ্রন্থাগার গড়ে তুলতে মহারাজার তার রাজা উলিয়মিয়ান এলিসন বর্দান নামে একজন আমেরিকান গ্রন্থাগারিককে তার রাজা গ্রন্থাগার প্রশাসনের সহমর্ম নিয়মক হিসেবে নিযুক্ত করেন।
১৯১০-১৩ খ্রি.-র মধ্যে তার কার্যকালের সময় বর্নে উন্নীত এই রাজ্যে গ্রন্থাগারের একটি আঞ্চলিক গড়ে তুলেতে সচেষ্ট হন। কিন্তু তার এই দৃষ্টান্ত পথবর্তী উন্নতির পথ প্রশস্ত করতে পেরেছে এ কথা বলা যাবে না। উত্তর এস. আর. রাজনাথন ভারতে সর্বপ্রথম একটি সুসংগঠিত গ্রন্থাগার আন্দোলনের পুরোধা।
১৯৩০ খ্রি. বেনারসে অনুষ্ঠিত All India Educational Conference-এ তিনি সর্বপ্রথম একটি সুসংগঠিত গ্রন্থাগার ব্যবস্থার কথা বলেন। সেখানে তিনি গ্রন্থাগার সংগ্রহের সংক্রান্ত একটি আইনের নমুনা পেশ করেন যার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে ভারতে গ্রন্থাগার বিষয়ে আইন তৈরি হয়েছে।
ভারতে স্বাধীনতার আগে পর্যন্ত গ্রন্থাগার আন্দোলন খুবই প্রাথমিক পর্যায় ছিল। কয়েকটি রাজকীয় ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও কয়েকটি সাধারণ গ্রন্থাগার ছাড়া আর কিছু ছিল না।
১৯৮৭ খ্রি. স্বাধীনতার লাভের পর ভারতে ২৭টি রাজ্য ও ৬টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নগর, শহর ও গ্রামের গ্রন্থাগারের আঙিনায় জোর কর কাজ শুরু হয়। কেন্দ্রীয় ও রাজিক সরকার জনগণের টাকায় সাধারণ গ্রন্থাগার গড়ে তোলার নীতি গ্রহণ করে যেখানে বিনামূল্যে সেগলো ব্যবহার করতে পারে।
ভারত সরকারের পরিকল্পনা পরিকল্পনা গ্রন্থাগার উন্নয়ন ১৯২১ সাল থেকে শুরু করা বহুবার্ষিক পরিকল্পনা প্রকল্পরে অন্তর্গত করে। পরিকল্পনা গ্রন্থাগার ও সংবাদ সরবরাহ ব্যবস্থাপনানের উন্নয়নে গুরুত্ব আরোপ করেছে।
দিল্লি সাধারণ গ্রন্থাগার ও জাতীয় বিজ্ঞান ডকুমেন্টেশন কেন্দ্র (INDSOC) ইউনেস্কোর সহযোগিতায় গড়ে তোলা হয়েছে।