নিম্নে রঙ্গনাথুনের চতুর্থ পঞ্চম সূত্র সম্পর্কে সম্পূর্ণ আলোচনা করা হয়েছে। সে সঙ্গে পাঁচটি সূত্রের সাপেক্ষে সংক্ষিপ্ত ও পরিচালনা করা হয়েছে।

চতুর্থ সূত্র : পাঠকের সময় বাঁচান
এই সূত্রটি চায় অকারণে পাঠকদের কাজে বিলম্ব ঘটানো বন্ধ করতে। এই ধরনের বিলম্বের ফলে পাঠক বিরক্ত ও অসন্তুষ্ট হন। একজন অসন্তুষ্ট পাঠক সচরাচর গ্রন্থাগারে আসতে চান না। শুধুমাত্র পরিতৃপ্ত পাঠকেই গ্রন্থাগারে নিয়মিত আসা যাওয়া করেন।
গ্রন্থাগারে পৌছোনোর মুহূর্ত থেকে বিদায়ের মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা যদি পাঠককে মনোযোগ দিয়ে লক্ষ করি, প্রতিটি স্তরে সময় বাঁচানোর কথা ভেবে আমরা যদি তাকে যে সব প্রণালীর মধ্য দিয়ে এগোতে হয় সেগুলিকে পর্যবেক্ষণ করি, তাহলেই আমরা এই সূত্রের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে সক্ষম হব।
ক্রোজড অ্যাকসেস সিস্টেম পছন্দমতো গ্রন্থটি পেতে যথেষ্ট বিলম্ব হবার সম্ভাবনা। ক্যাটালগ এন্ট্রি দেখা, রিকুইজিশন স্লিপ লেখা এবং গ্রন্থের জন্য কাউন্টারে অপেক্ষার মধ্য দিয়ে পাঠকের যথেষ্ট সময় নষ্ট হয়। এই সূত্রটি মনে করে যে, ব্যস্তবিশেষের নিজস্ব সময়ের অপচয় ব্যস্তনিরপেক্ষ বাস্তব সময়ের অপচয়ের থেকে বেশি যন্ত্রণাদায়ক।
এই ‘বাস্তব’ সময়ের থেকে পাঠকের ‘ব্যস্তনির’ নিজস্ব সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ক্রোজড অ্যাকসেস সিস্টেমে এই দুই ধরনের সময়ই জড়িত রয়েছে। ব্যস্তনির সময় হল সে সময়টুকু, যা আমরা অতির্বাহিত করেছি বলে মনে করছি। অন্যদিকে, ব্যস্তনিরপেক্ষ সময়টুকু হল প্রকৃত বা বাস্তব সময়, যা অতিবাহিত হয়েছে। এই ধারণাটিকে পরিষ্কার করে বোঝার জন্য একটি উদাহরণের সাহায্য নেওয়া যাক।
ধরে নেওয়া যাক কোনো পাঠক তার পছন্দমতো পরিষেবা পেতে পনেরো মিনিট অপেক্ষা করেছেন। যদি কেউ তার দিকে মনোযোগী না হয় বা তাকে অসন্তুষ্টভাবে প্রতীক্ষা করতে হয়, তখন তার কাছে ওই পনেরো মিনিট সময়টুকি পয়ত্রিশ মিনিট মনে হবে। এখানে ব্যস্তির নিজস্ব সময় প্রকৃত সময়ের থেকে অনেক বেশি হয়ে যায়। কাজেই পাঠকদের সময় বাঁচাতে নিম্নলিখিত ব্যবস্থাগুলি নেওয়া দরকার।
১. ওপেন অ্যাকসেস
ওপেন অ্যাকসেস পাঠকের নিজস্ব সময় বাঁচানোর এক সন্তোষজনক উপায় হিসাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এখানে গ্রন্থের জাতে হারিয়ে যেতে যেতে সময় কোথায় দিয়ে উড়ে গেল, পাঠক তা খেয়াল করেন না। কিন্তু ধৈর্য ধরে কাউন্টারে অপেক্ষা করা তাদের কাছে যন্ত্রণাদায়ক। সমস্যি অর্থ আর অর্থই সময়। এই আপ্তবাক্যটি স্মরণ করে একথা বলা যায় যে, ওপেন অ্যাকসেস সিস্টেম পাঠকদের সময় বাঁচানোর কাজ করেই যাবে।
২. শ্রেণিবিভাজন ও ক্যাটালগ প্রস্তুতি
উপযুক্ত স্ট্যাকবুম নির্দেশিকা, বিশ্লেষণমূলক ক্রশ- রেফারেল কার্ড সমৃদ্ধ আরো কার্যকরী ক্যাটালগ এবং গ্রন্থের সঠিক শ্রেণি বিভাজনের সাহায্যে আমরা সময়ের অপচয় হ্রাস করতে পারি। নানা উপাদানের সমৃদ্ধ গ্রন্থের বিভিন্ন দিকগুলি শুধুমাত্র ক্রশ-রেফারেলই সবার দৃষ্টিগোচর করতে পারে।
কখনো কখনো এই ধরনের এন্ট্রিগুলি ক্যাটালগে অন্য কোনো বিষয়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা একটি গ্রন্থের অন্যান্য চমৎকার দিকগুলি পাঠকের নজরে আনতে সাহায্য করে।
৩. চার্জিং সিস্টেম
রেজিস্টার ব্যবহার করার প্রাচীন প্রথা বড় সময়সাপেক্ষ। তার পরিবর্তে ‘টু কার্ড’ ব্যবস্থা অনেক দ্রুত ও কম ব্যয়সাপেক্ষ। টিকিট সিস্টেম, ফটো-চার্জিং সিস্টেম, কম্পিউটার চার্জিং সিস্টেমের মতো আধুনিক ব্যবস্থাগুলি পাঠকের সময় বাঁচাতে সক্ষম।
৮. রেফারেল সার্ভিস
সুন্দর শ্রেণিবিভাগ বিন্যাস, বিষাদ বর্ণনাসহ সুন্দরভাবে প্রস্তুত ক্যাটালগ থাকা সত্ত্বেও, সময় সংক্ষেপণের এই বিভিন্ন উপায়ের গোলক ধাধায় সাধারণ পাঠকের পক্ষে তার কাঙ্খিত তথ্যটি পাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। এই বিভিন্ন উপায়ের গোলক ধাধায় সাধারণ পাঠক ও গ্রন্থের মধ্যে সম্পর্ক তৈরির জন্য তাই প্রয়োজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীর।
চতুর্থ সূত্র এক কার্যকরী গ্রন্থাগার ও পাঠকের মধ্যে সম্পর্ক তৈরির জন্য তাই প্রয়োজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীর। রেফারেল সার্ভিস দাবি করে। রেফারেল কর্মীর কাজ ঘটকালি করা। তারা রেডি রেফারেন্স ও লংরেঞ্জ রেফারেন্স সার্ভিসের সাহায্যে বর (গ্রন্থ) কনে (পাঠক) মিলন ঘটান।
পঞ্চম সূত্র : গ্রন্থাগার এক ক্রমবর্ধনশীল প্রতিষ্ঠান
জীববিদ্যায় এটি একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য যে শুধুমাত্র বর্ধনশীল জীবেই টিকে থাকতে সক্ষম হয়। কোনো জীবের বৃদ্ধি থেমে গেলে তা জীবাশ্মে পরিণত হয়ে শেষে বিনষ্ট হয়ে যায়। আবার জীবিত অবয়বের (organization) বৃদ্ধি দুরকম-শৈশবকালীন বৃদ্ধি ও বয়ঃপ্রাপ্তিকালীন বৃদ্ধি। শৈশবকালীন বৃদ্ধি ফুটে ওঠে শারীরিক ক্ষেত্রে বৃদ্ধি দুরকম-শৈশবকালীন বৃদ্ধি ও বয়ঃপ্রাপ্তিকালীন বৃদ্ধি।
শৈশবকালীন বৃদ্ধি ফুটে ওঠে শারীরিক বিকাশের মধ্য দিয়ে, কিন্তু বয়ঃপ্রাপ্তিকালীন বৃদ্ধি ঘটে মূলত কোনো পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। কোনো গ্রন্থাগারের বৃদ্ধি দৃশ্যমান হয় তার গ্রন্থ সংগ্রহ কর্মী, পাঠক ও অন্যান্য উপাদানগুলির বিকাশের মধ্য দিয়ে।
১. গ্রন্থ সংগ্রহ
গ্রন্থাগারের সংগ্রহ বাড়ার সাথে সাথে স্বাভাবিকভাবেই তার জন্য প্রয়োজনীয় জায়গার পরিমাণ বাড়তে থাকে। অন্য ভাবে বলতে গেলে, গ্রন্থসংগ্রহ বৃদ্ধি পেলে তা স্ট্যাকরুমের বিন্যাসকে প্রভাবিত করে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে স্ট্যাকরুমকে যাতে সহজেই বাড়ানো যায়, গ্রন্থাগার স্থাপনের সময়েই সেই বিষয়ে পরিকল্পনা করে নেওয়া উচিত।
আবার এটাও মাথায় রাখা প্রয়োজন যে কোনো গ্রন্থাগারই অবিরত বেড়ে উঠতে পারে না। কাজেই, এই সূত্রটি মনে করে যে সংগ্রহের সুস্থ বিকাশেই শুধু সম্মতি দেওয়া উচিত। একইভাবে, সীমিত জায়গার কথা মনে রেখেই সংগ্রহ বাড়ানো উচিত। সংগ্রহের বৃদ্ধি অপরিহার্য হয়ে উঠলে পুরোনো অকেজো ও অব্যবহৃত সামগ্রীগুলিকে পরিত্যাগ করা উচিত, যাতে নতুন সংযোজনগুলি তাদের জায়গা নিতে পারে।
২. পাঠক
ধারাবাহিকতা, চিরন্তনতা ও বিরামহীনতা পটভূমিতে গ্রন্থাগারের বিকাশ মাপতে গেলে তা নির্ভর করে পাঠকের সংখ্যাবৃদ্ধির উপর। পাঠকসংখ্যার বৃদ্ধি এই বিষয়গুলির উপর প্রভাব ফেলতে বাধ্য: গ্রন্থাগারের আয়তন, ইস্যু প্রণালী ও কিছু নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা।
পাঠকসংখ্যার প্রত্যাশিত বৃদ্ধির কথা চিন্তা করে পাঠাগৃহ ও বসার জায়গার উপযুক্ত ব্যবস্থা করা জরুরী। বেশি পাঠকসংখ্যার প্রত্যাশিত বৃদ্ধির সাথে ওপেন এক্সেস গ্রন্থাগারের চুরির সমস্যা বেড়ে যায়। এর জন্য প্রয়োজন কিছু নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা।
৩. কর্মী
সঠিক অনুপাতে কর্মীসংখ্যা বৃদ্ধি করাও প্রয়োজন। সংগ্রহ ও পাঠকসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে নতুন কিছু পরিষেবা জরুরি হয়ে পড়ে। এসবের জন্য চাই বেশিসংখ্যক কর্মী।
৪. শ্রেণিবিভাজন ও ক্যাটালগ
নির্বাচিত শ্রেণিবিভাজন ব্যবস্থাটিও পঞ্চম সূত্রের পক্ষে প্রাসঙ্গিক। এই ব্যবস্থাটি হওয়া উচিত এক সর্বাধিক প্রণালী, যাতে অতীত ও বর্তমানের সমস্ত জ্ঞান সঞ্চিত থাকবে ও সর্বদা সংযোজনের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকবে। অন্যাভাবে বলতে গেলে, নির্বাচিত শ্রেণিবিভাজন ব্যবস্থাটিকে নতুন নতুন বিষয়ের প্রতি অতিবেঁচল হতে হবে।
গ্রন্থাগারের সংগ্রহ বৃদ্ধির সাথে তাল মেলাতে ক্যাটালগের যে উন্নত রূপটি চালু হয়েছে তার নাম ‘কার্ড ফর্ম’। এই ধরনের ক্যাটালগ সীমাহীন বিকাশের ক্ষমতা রাখে এবং এসটিরুলির সমন্বয় সম্ভব করে।
৫. ভবিষ্যতের জন্য ব্যবস্থা
গ্রন্থ, পাঠক ও কর্মীদের সংখ্যাবৃদ্ধির সাথে সাথে গ্রন্থাগারের বিকাশের মৌলিক উপাদানগুলির এক যথাযথ ও নিখুত উপলব্ধি নিহিত আছে পঞ্চম সূত্রটির মধ্যে। বিকাশকে অর্গানিজম (organism) হিসেবে দেখলে, গ্রন্থাগার সংগঠন ও পরিকল্পনা বাড়তি গুরুত্ব দাবি করে।
তারা এতগুলো দিক আমাদের চোখের সামনে উন্মোচিত করে যে, ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সেগুলির সাথে প্রত্যেকের পরিচিত হওয়া উচিত। গ্রন্থাগার ভবনের পরিকল্পনা ও নকশা তৈরির সময় অনুভূমিক ও উল্লম্ব, দুই দিকে প্রসারণের সংস্থান রেখতে হবে।
সুতরাং পঞ্চম সূত্র স্বীকার করে যে বিকাশ অবশ্যম্ভাবী ও সেটি সুসংবদ্ধভাবে পরিকল্পনা করা উচিত।
ব্যাবহারিক সুযোগসুবিধা থেকে প্রশাসনিক কর্মধারা, কোনো ক্ষেত্রেই গ্রন্থাগারকে আবদ্ধ করে রাখলে চলবে না। তাকে প্রসারিত হবার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। এইভাবে রজনা নাথন গ্রন্থাগার পরিষেবার ধারণা ও দর্শনকে ব্যাখ্যা করেছেন।
এই পাঁচটি সূত্রকে তিনি উচ্চতম আসনে স্থান দিয়ে এবং তার মতে, অন্য সব নিয়ম, স্বতঃসিদ্ধ ইত্যাদিকে এই সূত্রগুলির অধীনে কাজ করতে হবে। এই সূত্রগুলির থেকে এই দর্শন বেরিয়ে আসে যে তথ্যের পরিমাণ বাড়ে চলেছে, মানুষের তথ্যের প্রয়োজন ও গ্রন্থাগারের দায়িত্ব হল মানুষ যাতে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, তার ব্যবস্থা করা।
২.৮ পঞ্চম সূত্রের দৃষ্টিতে ডকুমেন্টেশন
পরবর্তীকালে রজনা নাথন উপলব্ধি করেছিলেন যে, গ্রন্থের বদলে ‘নথি’ শব্দটি ব্যবহার করলে গ্রন্থাগার পরিষেবার নতুন নতুন প্রবণতাগুলিকে আয়ত্তে আনা সহজতর হয়। সেই অনুযায়ী ‘ডকুমেন্টেশন অ্য্যান্ড ইটস ফ্যাসেটস’ গ্রন্থে তিনি তার সূত্রগুলিকে এইভাবে নতুন রূপে সাজিয়েছিলেন :
- ১. নথি হল ব্যবহারের জন্য
- ২. প্রত্যেক পাঠকের উপযোগী নথি আছে
- ৩. প্রত্যেক নথির পাঠক আছে
- ৪. পাঠকের সময় বাঁচানো
- ৫. গ্রন্থাগার এক বর্ধনশীল প্রতিষ্ঠান
রজানাথন লিখেছেন, “গ্রন্থাগার বিজ্ঞানের পাঁচটি সূত্র দ্বারা চালিত হয়ে ও বিশেষজ্ঞ পাঠকদের কাছে সদ্যোজাত অনুচিন্তার (micro-thought) আবেদনে গ্রন্থাগার শিল্প এখন এক নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি, যা দাবি করে নতুন কৌশল, নতুন মনোভাব ও নতুন পরিষেবা।” রজানাথন ডকুমেন্টেশনের সংজ্ঞা দিয়েছেন এইভাবে :
- ১. “বিশেষজ্ঞদের দ্বারা সদ্যোজাত অনুচিন্তার উন্নতিসাধন ও তার ব্যবহার প্রচলিত করা (সূত্র ১)
- ২. নিখুঁত (সূত্র ২)
- ৩. সামগ্রিক (সূত্র ৩)
- ৪. দ্রুত (সূত্র ৪), অনুচিন্তার পরিষেবা বিশেষজ্ঞদের কাছে পৌছে দেওয়া
- ৫. হাজার হাজার পত্রপত্রিকার মাধ্যমে প্রচারিত একের পর এক বিষয়ের উপর নিরন্তর জলধারার মতো নেমে আসা (সূত্র ৫) সদ্যোজাত অনুচিন্তার প্রবাহ সত্বেও ।”
২.৯ পঞ্চ সূত্রের দৃষ্টিতে তথ্য
“গ্রন্থাগার” শব্দটির সাথে “গ্রন্থ” শব্দটি জড়িয়ে আছে বহু শতাব্দী ধরে । প্রকৃতপক্ষে, গ্রন্থ ও নথি, দুটিই হল অবয়বী (physical) রূপ । এই অবয়বী রূপেই অবস্থান করে তথ্য । কাজেই ‘গ্রন্থ’ এবং / অথবা ‘নথি’ শব্দগুলি ব্যবহার করলে যা বোঝায়, তা হল এই দুই অবয়বী রূপের মধ্যে রাখা তথ্য । এখন ‘গ্রন্থাগার’ শব্দটি সেকেলে হয়ে পড়েছে ও তার স্থান নিচ্ছে তথ্যকেন্দ্র, তথ্যাব্যবস্থা ও তথ্যবিজ্ঞানের মতো শব্দগুলি ।
বিংশ শতাব্দীতে তথ্য পরিষেবার এমন ব্যাপক প্রসার ঘটেছে যে, কোনো সমাজকে তখনই উন্নত আখ্যা দেওয়া হয় যখন সে তথ্যের বেশিরভাগ অংশ ব্যবহার করতে সক্ষম হয় । যারা যথেষ্ট পরিমান তথ্য ব্যবহার করতে সক্ষম হয় না, তাদের অনুগ্রসর হিসেবে চিহ্নিত করা হয় । সমাজে তথ্য সংরক্ষণ ও তা ছড়িয়ে দেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি জন্য কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্র এক বিরাট ভূমিকা নিতে শুরু করেছে । এই পরিবর্তিত পটভূমিতে সূত্রগুলি মতে উপস্থাপন করা যেতে পারে :
- ১. তথ্য হল ব্যবহারের জন্য
- ২. প্রত্যেক ব্যবহারকারীর উপযোগী তথ্য আছে
- ৩. প্রত্যেক তথ্যের ব্যবহারকারী আছে
- ৪. ব্যবহারকারীর সময় বাঁচানো
- ৫. তথ্যব্যবস্থা এক বর্ধনশীল প্রতিষ্ঠান
প্রথম সূত্রটি মুক্ত তথ্যপ্রবাহের রাস্তা থেকে সমস্ত বাধানিষেধ তুলে দিতে চায় । বৈদ্যুতিন মাধ্যম ও অন-লাইন নেটওয়ার্কের সাহায্যে তথ্যকে এই সূত্র বিশ্বজনীন করে তুলতে চায় । এই সূত্র সমস্ত ধরণের জাতীয় প্রগতিতে তথ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা সবার দৃষ্টিগোচর করে।
দ্বিতীয় সূত্রটি চায় যে তথ্য প্রণালীর নকশা তৈরি ও কাজকর্মের সময় ব্যবহারকারীরা কেন্দ্রে উপস্থিত থাকুন । কারণ, ব্যবহারকারীরাই তাদের সঠিক প্রয়োজনগুলিকে । নিশ্চিতভাবেই জানা অত্যন্ত জরুরি । নতুন তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির মধ্য দিয়েই প্রত্যেকটি ব্যবহারকারীর কাছে পৌছানোর স্বপ্ন সফল হবে । সেই কারণে এই সূত্র তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিকে নতুন প্রযুক্তিকে বরণ করতে উপদেশ দেয় ।
তৃতীয় সূত্র এক সক্রিয় তথ্য পরিবেষা গড়ে তুলতে চায় অধিক ব্যবহারকারীকে সঠিক তথ্য পরিবেশন করে । সৃষ্ট ও সংগৃহীত তথ্য তার সম্ভাব্য ব্যবহারকারীদের দৃষ্টিগোচর হওয়া উচিত। এই সূত্র তথ্যের সর্বাধিক প্রকাশের জন্য সঠিক যন্ত্রের উদ্ভাবন চায়।
চতুর্থ সূত্র সর্বাধিক গতি ও কার্যকারিতা আনার জন্য তথ্য প্রক্রিয়াকরণে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেয়।
পঞ্চম সূত্রটি বলতে চায় যে ব্যবহারকারীর সুযোগসুবিধে থেকে প্রশাসনের কর্মচারী, এই দুই ক্ষেত্রেই তথ্যকেন্দ্রের উচিত কিছুটা খোলা পরিসর রাখা, যাতে ভবিষ্যতে প্রসারিত হবার জন্য সে প্রস্তুত থাকতে পারে। নিজেদের বিকাশের জন্য তথ্যসংস্থাগুলির উচিত এক প্রণালীবদ্ধ পথ অনুসরণ করা। ব্যবহারকারীদের নিত্য গতিশীল চাহিদার সঙ্গো তাদের তাল মিলিয়ে চলা উচিত। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে পরিকল্পনাকারী ও নীতি নির্ধারণকারীদের এই সূত্র জাতীয় তথ্যনীতি রচনা করতে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও নেটওয়ার্ক সৃষ্টি করতে উপদেশ দেয়।
:: রঙ্গনাথনের পাঁচটি সূত্র হল এক মৌলিক অবদান। এই সূত্রগুলি এত দূরদৃষ্টিসম্পন্ন যে, তথ্যের পরিবর্তনশীল পটভূমিকে এক নতুন দৃষ্টি প্রদান করার ব্যাপারে তারা আজও কার্যকরী। তারা কোন তথ্যকেন্দ্রের কাঠামোতে স্বচ্ছন্দে, ঠিকভাবে সংযুক্ত হয়ে যাবার ক্ষমতা রাখে।
এই পরিচ্ছেদটি শেষ করা যেতে পারে আর্থারটনের এক প্রশংসাবাণী দিয়ে: “গ্রন্থাগার বিজ্ঞানের পাঁচটি সূত্র প্রকাশ করা ছাড়া ড. রজনাথন যদি আর কিছুই না করতেন, লাইব্রেরি হল অফ ফেমে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তার নাম তবুও গভীরভাবে চিন্তা করা হত।”
রঙ্গনাথনের সূত্রগুলি মৌলিক, কারণ তারা অতীতের বিষয়ে প্রাসঙ্গিক, আধুনিক প্রগতির বিষয়ে প্রাসঙ্গিক এবং ভবিষ্যৎ প্রগতির বিষয়েও প্রাসঙ্গিক থেকে যাবে।