নেটওয়ার্কে এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে তথ্য একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে প্রেরণ করা হয়। যাকে বলা হয় প্রোটোকল। নেটওয়ার্কের সমস্ত ক্ষেত্রেই তথ্য প্রেরণে এই প্রোটোকল মেনে চলতে হয়। ইন্টারনেট সিস্টেমের মূল ভিত্তি হল TCP/Internet Protocol । যেহেতু TCP/IP-এর মধ্যে একাধিক প্রোটোকল থাকে, তাই একে TCP/IP প্রোটোকল স্যুট বলা হয়। TCP/IP প্রোটোকল স্যুট এ মোট চারটি স্তর আছে। 

ট্রান্সমিশন কন্ট্রোল প্রোটোকল / ইন্টারনেট প্রোটোকল (TCP/Internet Protocol)
  • 1. নেটওয়ার্ক স্তর
  • 2. ইন্টারনেট স্তর
  • 3. ট্রান্সপোর্ট স্তর
  • 4. অ্যাপ্লিকেশন স্তর

1. নেটওয়ার্ক স্তর (Network Layer)

নেটওয়ার্ক হল TCP/IP প্রোটোকল স্যুট-এর প্রথম স্তর। এই স্তর ডেটা লিংক স্তর ও ফিজিক্যাল স্তর-এর সমন্বয়ে গঠিত। ডেটা লিংক ও ফিজিক্যাল স্তরে TCP/IP-এর কোনো নির্দিষ্ট প্রোটোকল নেই। এই স্তরের কাজ সম্পর্কে কোনো সঠিক ধারণা নেই তবে বলা যায় এই স্তরের কাজ হল নেটওয়ার্কে ডেটা প্রেরণ করা। তবে TCP/IP-এর নিজস্ব প্রোটোকল এই স্তরে না থাকলেও এটি LAN ও WAN -এর সমস্ত প্রোটোকলকে সমর্থন করে।

2. ইন্টারনেট স্তর (Internet Layer)

TCP/IP প্রোটোকলের মধ্যে IP ডেটা আদান প্রদানের সঞ্চো প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। এটি একটি সংযোগবিহীন প্রোটোকল। ডেটা আদান প্রদানের ক্ষেত্রে IP চার প্রকার প্রোটোকল ব্যবহার করে সেগুলি হল ARP, RARP, ICMP ও IGMP।

i) ARP (Address Resolution Protocol)**: ARP-এর মূল কাজ হল লজিক্যাল অ্যাড্রেস-এর ফিজিক্যাল অ্যাড্রেস বার করা। LAN সিস্টেমে যেমন প্রত্যেকটি কম্পিউটারে একটি নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড বা NIC লাগানো থাকে এবং এই নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড কম্পিউটারের ফিজিক্যাল অ্যাড্রেস লেখা থাকে, ARP-এর কাজ হল ডেটাতে যে ইন্টারনেট অ্যাড্রেস আছে সেটি কোন কম্পিউটারের ফিজিক্যাল অ্যাড্রেস তা খুঁজে বের করা।

ii) RARP (Reverse Address Resolution Protocol)**: এর কাজ ARP এর ঠিক উল্টো অর্থাৎ একটি কম্পিউটারের ফিজিক্যাল অ্যাড্রেস জানা থাকলে সেখান থেকে ইন্টারনেট অ্যাড্রেস বার করে। যখন কোনো কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সঙ্গে প্রথম যুক্ত হয় তখন এটি ব্যবহার করা হয়।

iii) ICMP (Internet Control Message Protocol)**: এটি ডেটা পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হলে প্রেরককে সেটি জানিয়ে দেয়।

iv) IGMP (Internet Group Message Protocol) : যখন কোনো ডেটা অনেকগুলি ঠিকানায় পাঠানো হয় তখন IGMP ব্যবহার করা হয়।

৩. ট্রান্সপোর্ট স্তর (Transport Layer) :

ট্রান্সপোর্ট স্তরে দুই ধরনের প্রোটোকল ব্যবহার করা হয়, ট্রান্সমিশন কন্ট্রোল প্রোটোকল বা TCP এবং ইউজার ডেটাগ্রাম প্রোটোকল বা UDP।

i) ট্রান্সমিশন কন্ট্রোল প্রোটোকল (Transmission Control Protocol) :

TCP হল TCP/IP প্রোটোকল স্যুইটের অন্যতম একটি অংশ। এটি একটি কমিউনিকেশন প্রোটোকল যা অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে ডেটা ট্রান্সফারের কাজ করে। অ্যাপ্লিকেশন স্তর থেকে ডেটা প্রথমে ট্রান্সপোর্ট স্তরে আসে, TCP এই ডেটাকে ছোটো ছোটো ভাগে ভাগ করে যাকে সেগমেন্ট (Segment) বলা হয়। প্রতিটি সেগমেন্ট-এ ক্রমিক সংখ্যা দেওয়া হয়। সেগমেন্টগুলি নেটওয়ার্ক স্তরে পৌঁছে যায় তখন তাতে IP ডেটাগ্রাম ভরা থাকে। ক্রমিক সংখ্যা অনুসারে TCP সেই ডেটাগ্রাম থেকে ডেটাগুলিকে সংগ্রহ করে নেয় ও সেগুলিকে অ্যাপ্লিকেশন স্তরে পাঠিয়ে দেয়।

ii ) ইউজার ডেটাগ্রাম প্রোটোকল (User Datagram Protocol) :

UDP ডেটাগ্রাম পুনঃ প্রেরণের সুবিধা প্রদান করে না। UDP খুব বেশি বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করে না, তবে এর কতগুলি ব্যবহার রয়েছে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে। যে সকল অ্যাপ্লিকেশন নিজ থেকে ডেটা প্রেরণে বিশ্বস্ততা নিশ্চিত করতে পারে, সেই সকল অ্যাপ্লিকেশন খুব সহজেই UDP ব্যবহার করতে পারে। UDP ডেটা প্রেরণে নিশ্চয়তা প্রদান করে না বলেই একে বলা হয় সংযোগবিহীন (Connectionless) প্রোটোকল। UDP তথ্য প্রেরণের কাজ অনুসরণ করে না বা ডেটা প্যাকেট প্রাপ্তিস্বীকার করে না বলেই ইউটিপি অধিক দ্রুততার সাথে কাজ করতে পারে। UDP-র প্রধান কাজ হল IP অ্যাড্রেসে পোর্ট নম্বর যোগ করা।

৪. অ্যাপ্লিকেশন স্তর (Application Layer) :

অ্যাপ্লিকেশন স্তরই এই প্রোটোকলের সর্বোচ্চ স্তর। এই স্তরে বিভিন্ন পরিষেবা যেমন- E-mail, Telnet, HTTP, FTP, SMTP, POP3-এর জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটোকল থাকে।

i) ফাইল ট্রান্সফার প্রোটোকল বা (File Transfer Protocol or FTP) :

ইন্টারনেটের আওতাধীন কোনো ফাইল বা ওয়েব সার্ভারের থেকে বড়ো আকৃতির কোনো ফাইল বা ডেটা ডাউনলোড এবং আপলোডের জন্য FTP প্রোটোকল ব্যবহৃত হয়। ইন্টারনেট থেকে কোনো ফাইল বা ডেটা নিজস্ব কম্পিউটারে নিয়ে আসার পদ্ধতিকে ডাউনলোড (Down-load) এবং নিজের কম্পিউটারের কোনো ফাইল বা ডেটাকে ইন্টারনেটের ফাইল বা ওয়েব সার্ভারে প্রেরণ করাকে আপলোড (Upload) বলে।

ii ) হাইপার টেক্সট ট্রান্সফার প্রোটোকল বা (Hyper Text Transfer Protocol or HTTP) :

হাইপার টেক্সট হল দুই বা ততোধিক কম্পিউটারের মধ্যে হাইপার টেক্সট স্থানান্তরের জন্য যে প্রোটোকলটি যুক্ত থাকে সেটি হল— HTTP বা হাইপার টেক্সট ট্রান্সফার প্রোটোকল। হাইপার টেক্সট হল একটি বিশেষ ধরনের টেক্সট বা HTML নামক প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজের বিভিন্ন কোড বা সংকেত দ্বারা লিখিত। www-তে তথ্যের যে বিশাল ভান্ডার আছে HTTP-র মাধ্যমে সেগুলি পাওয়া যায়। HTTP ক্লায়েন্ট/সার্ভার নীতি অনুসরণ করে কাজ করে। এক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট-এর অনুরোধ (request) সার্ভার গ্রহণ করে সাড়া দেয়। এই অনুরোধের ফলে HTTP উৎসটির শনাক্ত করে সার্ভারকে সেই মতো কাজ করার নির্দেশ দেয়। সার্ভার তখন সেই অনুরোধ (request) গ্রহণ করে HTTP মারফৎ কাজ সম্পন্ন করে। হাইপার টেক্সটগুলি সাধারণত নীল বর্ণের হয় এবং লেখাগুলির নীচে একটি আন্ডারলাইন থাকে। মাউস পয়েন্টার হাইপার টেক্সট-এ স্থাপন করলে পয়েন্টারটি একটি তর্জনী তোলা হাতের চিহ্ন পরিণত হয়।

টেলনেট (TELNET) :

টেলনেট-এর সাহায্যে দূরবর্তী বা রিমোট কম্পিউটারে লগ-ইন (log-in) করা যায়। এরফলে ব্যবহারকারী একটি কম্পিউটারে বসেই অন্য কোনো কম্পিউটারের লগ-ইন করে সেই কম্পিউটারের তথ্য ও প্রোগ্রাম ব্যবহার করতে পারে। এই ধরনের সংযোগ স্থাপন করা যেতে পারে LAN বা WAN নেটওয়ার্কভুক্ত যে কোনো কম্পিউটার থেকে। তবে এক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে অবশ্যই রিমোট কম্পিউটারে প্রবেশের জন্য যথাযথ অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *