সমাজে গ্রন্থাগার সম্পর্ক আলোচনা করতে গিয়ে আমরা যা বলে থাকি, তার সিংহভাগই সমস্ত ধরনের গ্রন্থাগার সম্পর্কে প্রযোজ্য। সমাজে গ্রন্থাগার বিষয়ক প্রশ্নগুলি এই সমস্ত বিষয় ছুঁয়ে যেতে পারে- অন্যান্য জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যমের তুলনায় পড়ার গুরুত্ব, বিদ্যালয়ের বিধিবিধান শিক্ষার উদ্দেশ্যের সঙ্গী গ্রন্থাগারের শিক্ষার তুলনা, নিরক্ষরতার সঙ্গী চিরকালীন সংঘাত, গবেষণায় উৎসাহদান ও শিক্ষার ধারাবাহিকতা, ব্যক্তির নন্দনক উপলব্ধি, তথ্যের প্রচার ইত্যাদি।

সমাজে গ্রন্থাগারের ভূমিকা | Role of Library in Society

আধুনিক সমাজের ধারণায় গ্রন্থাগার কিভাবে এত শক্ত জাম পেল, সেটাই আমাদের এখন অনুসন্ধান করে দেখা যাক ।

শিক্ষা

সমাজের জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও আচরণশৈলীকে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে হস্তান্তর করার কাজটি শিক্ষা আখ্যা দেওয়া যেতে পারে। আধুনিক সমাজে এই কাজ সম্পন্ন হয় প্রথাগতভাবে সংগঠিত শিক্ষাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়—যে-কোনো-রকম শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের সংজ্ঞা একটি গ্রন্থাগার থাকা উচিত। সমাজ শিক্ষিত মানুষদের চায়, কারণ তারাই ভবিষ্যতে হয়ে উঠবে উত্তম নাগরিক।

শিক্ষার দ্রুত এবং ধারাবাহিক বিকাশের মধ্য দিয়ে আধুনিক যুগকে সভ্যতার পূর্ববর্তী যুগগুলি থেকে পৃথকভাবে চিহ্নিত করা যায় এবং এই প্রসঙ্গে গ্রন্থাগার ও অন্যান্য শিক্ষায়নগুলোর মূল্যায়ন করা আমাদের কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়। গ্রাফিক উপাদানে নথিবদ্ধ জ্ঞানকে সকলের নাগালে এনে সামাজিক জীবনকে সমৃদ্ধতর করে তোলার পিছনে গ্রন্থাগারের ভূমিকা আমরা স্বীকার করি।

প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থায় গ্রন্থাগার তার সুসংবদ্ধ সংগ্রহের মাধ্যমে পাঠক্রম তৈরি করতে সাহায্য করে। সে শিক্ষক ও ছাত্র, উভয়ের প্রয়োজনকেই স্বীকৃতি দেয়।

কোনো ব্যক্তি যদি কোনো শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের সংজ্ঞা সম্পর্ক ছেড়ে করেন, তাহলে সেটা কিছু অস্বাভাবিক ব্যাপার নয়। আজীবন তার বৌদ্ধিক ক্ষুধা মেটানোর কাজটি গ্রন্থাগার অবশ্যই করে যাবে। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ছাড়া এই কাজ করার জন্য গ্রন্থাগারই উপযুক্ত। এখন বিশ্বজুড়ে এক ‘আজীবন শিক্ষা’ অভিযান চলছে।

অর্থাৎ, ধার দিয়ে সমাজের পরিবর্তনশীল চাহিদার সংজ্ঞা তা মেলাতে তার সদস্যদেরও তেমন যেমন ছুরিকে শানিত রাখা হয়, সমাজের পরিবর্তনশীল চাহিদার সংজ্ঞা তা মেলাতে তার সদস্যদেরও তেমন নিজেদের পেশাদারী ও বৃত্তিগত দক্ষতা বজায় রাখতে হবে। শিক্ষার ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে ব্যক্তিমানুষের আত্মোন্নতির দায়িত্ব গ্রন্থাগারকে ভাগ করে নিতে হবে।

আজীবন প্রত্যেকটি মানুষের বৌদ্ধিক ক্ষুধা মেটানো গ্রন্থাগারের কর্তব্য। একথা শিক্ষিত ও উচ্চশিক্ষিত, উভয়ের ক্ষেত্রেই সমান সত্য। আবার স্বাক্ষর ও নিরক্ষরের ক্ষেত্রে হযতো আরো বেশি করে সত্য। গ্রন্থাগার যদি মানুষের সাংস্কৃতিক অনুসন্ধানকে চলমান রাখতে চায়, তাহলে তার প্রধান কর্তব্য হল সমাজের প্রতিটি সদস্যকে শিক্ষিত করে তোলা।

সমাজের একজন নিরক্ষর মানুষও শিক্ষার সুফল ভোগ করতে সক্ষম। তথ্য সংগ্রহ, প্রদর্শন ও প্রচারের বিভিন্ন প্রণালী এখন আধুনিক প্রযুক্তির করায়ত্ত। ফটোগ্রাফি, ফিল্ম ও টেলিভিশন গত এক শতকের মধ্যে চিত্রিত তথ্য সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের এক সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তি আমাদের উপহার দিয়েছে।

গ্রন্থাগারের (বিশেষ করে জনপ্রিয় গ্রন্থাগার) দায়িত্ব হল ফিল্ম, অডিও-ভিসুয়াল এবং অন্যান্য গণমাধ্যমের সাহায্যে সমাজের নিরক্ষর মানুষদের শিক্ষা ব্যবস্থা করা।

অর্থাৎ দৈনন্দিন জীবনের এক অঙ্গ হিসেবে গ্রন্থাগার মানুষের শিক্ষা, কর্ম ও বিনোদনের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করে। শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রন্থাগার এমন একটি জায়গা যেখানে তাদের জ্ঞানের অনুসন্ধান, তাদের নিজস্ব শ্রেণিক, পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষকদের দেওয়া শিক্ষার মধ্যে আবদ্ধ না থেকে সেগুলিকে অতিক্রম করে উচ্চতর স্তরে পৌঁছে যায়।

গ্রন্থাগারের মধ্যেই লেখক ও পাঠক, উভয়েই তথ্য, শিক্ষা ও আনন্দ নিতে একসাথে মিলিত হন। গ্রন্থাগারের দায়িত্ব শুধুমাত্র কোনো বিষয়ের পটভূমি সংক্রান্ত শিক্ষাদানেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। সামগ্রিক শিক্ষার আবশ্যক অঙ্গ যে অপ্রথাগত, শিক্ষায়তনের পাঠক্রম বহির্ভূত শিক্ষা, তার দায়িত্বও গ্রন্থাগারকে নিতে হবে।

সংস্কৃতি

যোগাযোগ ব্যবস্থার অঙ্গ হিসেবে গ্রন্থাগারের চিরচরিত ভূমিকা হল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকারের সংরক্ষণ ও প্রচার। সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে রাখবার কোন শক্তি না থাকলে সমাজ কাজ করতে পারে না। এই ঐক্যবদ্ধকারী শক্তিকেই নৃতত্ত্ববিদেরা সংস্কৃতি বলেন।

আবিষ্কার, শিল্প, ধারণা, বিশ্বাসের মতো মানুষের চরিত্রের সমস্ত বৈশিষ্ট্যগুলিকে ঘিরে রয়েছে এই সংস্কৃতি।

সাধারণ মানুষের মতে, গ্রন্থাগারের কর্তব্য হল গ্রাফিক নথিগুলি সকলের কাছে তুলে ধরা, যার ফলে ব্যক্তিমানুষের সৃজনশীল প্রতিভার প্রকাশ ও তার নান্দনিক উপলব্ধি বিকাশ ঘটবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাজের সাংস্কৃতিক জীবনকে সমৃদ্ধ করে তোলাও গ্রন্থাগারের কর্তব্য হওয়া উচিত।

৩. গবেষণা : গবেষণা জ্ঞানের সীমানাকে প্রসারিত করে। তার নিজের অস্তিত্বকে ও চারপাশের পৃথিবীটাকে আরো ভালোভাবে বোঝার বাসনা মানুষকে বিশ্বের অন্যান্য প্রাণীদের থেকে পৃথক করেছে।

এই বাসনা কিছুটা প্রতিত্বপূর্ণ হয় মানুষের প্রাত্যাহিক অভিজ্ঞতা, সেগুলিকে এক সাধারণ সূত্রে বেঁধে ফেলা ও তাদের যুক্তিসম্মত বিচার-বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে। জ্ঞানের বিস্তারের আরো কার্যকরী উপায় অবশ্য এক পরিকল্পিত ও সুবিন্যস্ত অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া—যাকে গবেষণা আখ্যা দেওয়া হয়।

সমাজের বাহ্যিক ও সাংস্কৃতির অগ্রগতি, দুই-ই গবেষণার উপর নির্ভরশীল। গবেষণাই হল সেই উপাদান, যা সমাজে জীবন সচ্ছার করে। গবেষণা প্রক্রিয়ায় সাহায্য করা গ্রন্থাগারের এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। উপলব্ধ জ্ঞান ও তথ্যের নাগাল পাওয়া গবেষণার পক্ষে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, পেটেন্ট, সভা বিবরণী ও অন্যান্য মাধ্যমের সাহায্যে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়ে থাকে।

গবেষণা প্রক্রিয়াকে সাহায্য করার জন্য গ্রন্থাগারের উচিত এগুলি প্রকাশনা করা। গবেষণার অগ্রগতির জন্য গ্রন্থাগার বেশ কয়েকটি পরিষেবা দিয়ে থাকে। কয়েকটি প্রাথমিক পরিষেবা হল :

  • (ক) বিশেষ ধরনের রেফারেন্স ফাইল ও নিবন্ধ রাখা
  • (খ) মুদ্রিত রচনার সন্ধান করা
  • (গ) সম্প্রকারীদের নিবন্ধ, প্রাসঙ্গিক ও প্রকৃত তথ্য সরবরাহ করা
  • (ঘ) গ্রন্থপঞ্জি তৈরি করা
  • (ঙ) প্রয়োজনীয় প্রকাশনাগুলির অনুবাদের ব্যবস্থা করা
  • (চ) রেফারাল সার্ভিসের ব্যবস্থা করা
  • (ছ) গ্রন্থাগারগুলির নিজস্ব সম্পাদকে আরো প্রসারিত করে তোলা।

তথ্য

বস্তু ও শান্তির মতো তথ্য সমাজের এক মৌলিক সম্পদ। এই সম্পদের সাহায্যেই আমরা পরিবর্তিত ও উন্নততর করতে পারি। যুগ যুগ ধরে তথ্য মানুষের মনের ভিতর সঞ্চিত থেকে এসেছে এবং পরবর্তীকালে সামাজিক সংস্পর্শ ও যোগাযোগের মধ্য দিয়ে পরিবর্তিত ও সময়োপযোগী হয়ে উঠেছে।

সমাজ যত উন্নত ও জটিল হয়েছে, তথ্যের উৎপাদন, প্রকাশনা ও প্রচার তত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ঘটে গেছে এক “তথ্য বিস্ফোরণ”। এর সাথে সাথে, সাক্ষরতা প্রসারী ও তথ্যের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের জন্য তথ্যপ্রস্থান। মানুষের সংখ্যাও নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অবশ্য নিরক্ষরতা, দারিদ্র, সঠিক চেতনার অভাবের জন্য তথ্য থেকে বঞ্চিত মানুষের সংখ্যাও বেড়ে উঠেছে।

তথ্য বিস্ফোরণ, তথ্য থেকে বঞ্চিত হওয়া, তথ্যের বাড়বাড়ি প্রভৃতি বিষয়ে উক্ত সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য তথ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে সংগঠিত জ্ঞানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রন্থাগার চিরকালই তথ্যজগতের এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, কিন্তু দেখা গেছে তার ঝোঁক প্রায়শই প্রথাগত পাঠের দিকে। গ্রন্থাগারের দায়িত্ব হল অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের এক অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে ওঠা। এখন গ্রন্থাগারকে তথ্যকেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। গ্রন্থাগারের চিরাচরিত রীতিনীতিগুলি এখন তথ্য- কেন্দ্রকে পথ ছেড়ে দিচ্ছে—যা ব্যবহারকারীর সজ্ঞ তথ্য ব্যবস্থার সম্পর্কে সক্রিয়ভাবে জড়িত।

গ্রন্থাগার ও তথ্যকেন্দ্র এখন তথ্য-কারবারিদের মস্তিষ্ক। যাদের কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তারা সর্বদাইতথ্যের খোঁজ করেন । উচ্চপদস্থ চাকুরীজীবী, ক্ষেত্রের কৃষক, কারখানার শ্রমিক—সকলের প্রয়োজন তথ্যের। কোনো নতুন সামগ্রী বাজারে ছাড়ার সময়, ক্ষেত্রে চাষবাদের সময় অথবা কোনো বহুতল বাড়ি তৈরির সময় সকলেই প্রয়োজনীয় উপাদানগুলির অবস্থা এবং তাদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছুটা নিশ্চিত হতে চায়।

সমাজের সকলেই বিশেষ বিশেষ প্রশ্নের উত্তর চায় ; নিজের নিজের লক্ষ্যে পৌছতে তথ্যের সাহায্য নিয়ে তারা নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করে নিতে চায় ।

বিনোদন, প্রেরণা ও অবকাশ :

জমিকে উর্বর করতে বাঁধ যেমন লক্ষ লক্ষ গ্যালন জমানো জল খালগুলির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করে দেয়, গ্রন্থাগার তেমনই তার বিপুল সম্পদ মানুষের বিনোদন, প্রেরণা, শিক্ষা ও জ্ঞানের জন্য তার বিভিন্ন শাখার মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে দেবার ব্যবস্থা করে ।

প্রতিটি মানুষ যাতে এক সুখ, উন্নত বরির অবকাশ যাপন করতে পারে, সেটুকু নিশ্চিত করা গ্রন্থাগারের কর্তব্য। প্রকৃতপক্ষে, সুস্থ অবকাশ যাপন আমাদের সমাজজীবনে এক গভীর চিন্তার বিষয় । কাজেই, অবকাশের সময়টুকু যাতে কোনো নেতিবাচক, ধ্বংসাত্মক কাজকর্মে ব্যবহৃত না হয়, সেদিকে আমাদের লক্ষ রাখা উচিত ।

ক্লান্ত, বিরক্ত মানুষ তার ক্ষুদ্র, নীচের পৃথিবী থেকে মুক্তি পেতে উত্তেজনা ও দুঃসাহসিক অভিযানের এক কল্পনিক জগতে নিজেকে খুঁজে পেতে চেষ্টা করে । এই প্রসঙ্গে রজনাথনের মতামতকে স্মরণ করা যেতে পারে : “বিনামূল্যে গ্রন্থ, চিত্র, সাউন্ড রেকর্ড ও অন্যান্য উপাদান বিতরণ করে এক উচ্চ বুচির, সুস্থির অবকাশ যাপন নিশ্চিত করতে হবে এবং সমাজের প্রত্যেকের আধ্যাত্মিক জাগরণের সুযোগ বাড়াতে হবে”। মানুষের আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় প্রয়োজন মেটাতে প্রতিটি গ্রন্থাগারের কিছু নমুনা সংগ্রহ থাকা বাঞ্ছনীয়।

আমাদের একথা স্মরণ করাই যথেষ্ট যে গ্রন্থাগারের প্রাথমিক চিন্তার বিষয় শেষ বিচারে মানবিক । আমাদের মৌলিক উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সেইসব মানুষদের সম্পর্কে আরো বেশি করে জানা যারা গ্রন্থাগার ব্যবহার করেন ও করেন না, ব্যবহার করলে কেন করেন এবং তাদের প্রয়োজনে আমরা কীভাবে সাড়া দিতে পারি ।

সমাজের সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে একমাত্র গ্রন্থাগার হল কোনোরকম রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুগত্যের উদার । অবশ্য কোনো বিচিত্রমূলক পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়লে গ্রন্থাগারকে কখনো কখনো বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থের দিকে নজর দিতে হয় ।

কিন্তু সমাজের অঙ্গীভূত এক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রন্থাগারকে আবার সমন্বয় সাধনকারীর ভূমিকাও নিতে হয় । সমাজের বৃহত্তর স্বার্থের দিকে লক্ষ রেখে, গোষ্ঠীস্বার্থকে নতুন ব্যাখ্যার সাহায্যে নতুন দিকে পরিচালনা করে গ্রন্থাগারের কর্তব্য সামাজিক ঐক্যসাধনের প্রচেষ্টা করা।

গ্রন্থাগারের পরিবর্তনশীল অবস্থা

“গ্রন্থাগার আমাদের সাংস্কৃতিক অতীতের এক সজীব ভান্ডার, যা ভবিষ্যতের পূর্বাভাস করতে সক্ষম”। এই উক্তি তাঁর “সোশিওলজিকাল এ্যান্ড ইনস্টিটিউশান চেঞ্জেস ইন আমেরিকান লাইফ” শীর্ষক নিবন্ধে র্যালফ ডবলু কনান্টের (এ এল এ বুলেটিন, ১৯৬৪, ৫৮, ৯৯৪) জ্ঞানের সঞ্চরণ গ্রন্থাগারের এক মৌলিক দায়িত্ব । ইথেন শেরা বলেন যে কিছু কিছু গ্রন্থাগারিক এখনো গ্রন্থকে জড় বস্তুর মতো সংরক্ষণ করাকে তাদের কর্ম-দক্ষতার মহত্তম প্রকাশ বলে মনে করেন । গ্রন্থাগারের সংগ্রহকে অবশ্যই যাতে তার সাথে গড়ে তুলতে ও সংরক্ষণ করতে হবে; কিন্তু সেই কাজটি করতে হবে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সমাজের উপকারের জন্য—নিজস্ব সম্মান বাড়ানোর জন্য বা শুধু কিছু করার জন্য করা নয় । নথিপত্রকে যত বেশি সম্ভব ব্যবহার করতে হবে এবং তা করতে হবে কোনো অসুবিধার মুখোমুখি হওয়া ছাড়াই ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *