গ্রন্থাগার শিক্ষাজীবন থেকে শুরু করে সমাজ জীবন প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এই গ্রন্থাগারের প্রসার এবং ভবিষ্যতের ছবি সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত উল্লেখ করা হলো।

গ্রন্থাগারের ভূমিকার প্রসার|Expanding role of libraries
Image by Marisa Sias from Pixabay

গ্রন্থাগারের পরিবর্তনশীল অবস্থা

“গ্রন্থাগার আমাদের সাংস্কৃতিক অতীতের এক সজীব ভাণ্ডার, যা ভবিষ্যতের পূর্বানুমান করতে সক্ষম” এই উক্তি তাঁর “সোশিওলজিক্যাল এ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল চেঞ্জেস ইন আমেরিকান লাইফ” শীর্ষক নিবন্ধে র্যালফ ডবলু কোনান্টের। (এ এল এ বুলেটিন, ১৯৬৪, ৫৮, ৯৯৪) জ্ঞানের সংরক্ষণ গ্রন্থাগারের এক মৌলিক দায়িত্ব।

ইভেন শেরা বলেন যে কিছু কিছু গ্রন্থাগারিক এখনো গ্রন্থকে জড় বস্তুর মতো সংরক্ষিত করাকেই তাদের কর্ম- দক্ষতার মহত্তম প্রকাশ বলে মনে করেন। গ্রন্থাগারের সংগ্রহকে অবশ্যই যত্নের সাথে গড়ে তুলতে ও সংরক্ষণ করতে হবে। কিন্তু সেই কাজটি করতে হবে বর্তমান ও ভবিষ্যত সমাজের উপকারের জন্য-নিজস্ব সম্মান বাড়ানোর জন্য বা শুধু কিছু করার জন্য করা নয়। নথিপত্রকে যত বেশি সম্ভব ব্যবহার করতে হবে এবং তা করতে হবে। কোনে*ট অসম্ভবের মুখোমুখি হওয়া ছাড়াই।

যে পরিস্থিতিতে আজকের গ্রন্থাগারগুলো রয়েছে, তার দ্রুত পরিবর্তন ঘটে চলেছে। বার্তা কোডিং, স্ক্যানিং বিতরণের পদ্ধতির সংখ্যা বেড়ে চলেছে ও চিরাচরিত গ্রন্থাগারগুলোই এই সব বার্তার এক ক্ষুদ্র অংশকে সামাল দিচ্ছে। গ্রন্থাগারের অবকাঠামো পরিবর্তন অবশ্যই কাম্য, কারণ সে সমাজের পক্ষে অতীব গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রন্থাগার প্রকৃতপক্ষে মানবজাতির স্মৃতি। আদিযুগের সেই সব মৃত্তিকা ফলকে লেখা, আজকের এই গ্রন্থাগারকে এক বিশাল সামাজিক মেধা বলা যায়। সেই সঞ্চিত জ্ঞানভাণ্ডার পরিভেশের দাসত্ব থেকে আমাদের মুক্তির পথ দেখিয়েছে। তিন হাজার বছর ধরে চলে আসা মৃত্তিকা ফলক থেকে মুদ্রিত গ্রন্থে উত্তরণের প্রগতির সেই রেখা আজ ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে।

আজকের গ্রন্থাগারে যে সামাজিক মেধা সঞ্চিত রয়েছে, তার পরিমাণ সুবিশাল। এই ক্ষেত্রে চিরাচরিত ব্যবস্থা আর কার্যকরী হচ্ছ না। স্বাভাবিক কারণেই, জ্ঞান সঞ্চয় ও পুনরুদ্ধারের যে উন্নততর প্রণালী সম্প্রতি নতুন প্রযুক্তি আমাদের উপহার দিয়েছে, তাকে আমরা বরণ করে নিতে বাধ্য হচ্ছি। আর যাই হোক গ্রন্থাগার এখন যে অবস্থায় আছে তা চলতে পারে না।

তথ্যপ্রযুক্তি হল কম্পিউটার, যা তথ্য সঞ্চয় ও হোক গ্রন্থাগার এখন যে অবস্থায় আছে তা চলতে পারে না। তথ্যপ্রযুক্তি হল কম্পিউটার, যা তথ্য সঞ্চয় ও প্রক্রিয়াকরণের কাজ করে এবং টেলিযোগাযোগ, যা বিশ্বের যে-কোনো মানুষকে যে-কোনো জায়গায় তথ্য পাঠাতে পারে—এই দুইয়ের এক শক্তিশালী মিলন।

তথ্যনির্ভর সমাজ

আধুনিক সমাজে এখন বৈদ্যুতিন যোগাযোগের যুগ, যা গ্রন্থাগারের ভূমিকায় পরিবর্তন আনছে। আসলে আধুনিক সমাজ ক্রমশ এক তথ্যনির্ভর সমাজে পরিণত হওয়ার দিকে এগিয়ে চলেছে।

এটি এমন এক সমাজ, যেখানে জীবনের মান, সামাজিক পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক বিকাশ আরো বেশি করে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে তথ্য এবং তার উপযুক্ত ব্যবহারের উপর। এখানে জীবনযাত্রার মান, কাজ ও অবকাশের ধরন, শিক্ষাব্যবস্থা এবং বাজার সবকিছুকেই তথ্য ও জ্ঞানের অগ্রগতি প্রভাবিত করে।

তথ্যকে সঠিকভাবে করতে সক্ষম হওয়ার স্তরে পৌঁছতে গেলে, অর্থাৎ তথ্য সৃষ্টি, তার অবস্থান নির্ণয়, ব্যবহার ও বিতরণ করতে গেলে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ও দক্ষতাকে বিশেষ তথ্যের ছাঁচে ফেলে নিতে হবে। সমাজে কাজ করার জন্য ব্যক্তিবিশেষকে তথ্যপ্রযুক্তির নতুন একচ্ছত্র প্রণালী শিখে নিতে হবে—অর্থাৎ তার সাক্ষরতার অর্থ সমাজে তথ্যের ভূমিকা ও শক্তি, তার ব্যবহার ও অপব্যবহারকে উপলব্ধি করা এবং তথ্য সংগঠনের প্রক্রিয়াকে আয়ত্ত করা।

গ্রন্থাগারের ভূমিকার প্রসার

সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কথা এই যে গ্রন্থাগার আসলে এক তথ্যকেন্দ্র। শিল্পবিপ্লবের পরবর্তী সময়ে গ্রন্থাগার পরিবেশ প্রকৃতি ও কাজের পরিধির ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে এবং বিশেষ বিশেষ বিষয় সংক্রান্ত তথ্যকেন্দ্র ও গ্রন্থাগারগুলোর আরো উন্নতি হয়েছে।

গ্রন্থাগারের কাছে পরিবর্তন কোনো নতুন ঘটনা নয়। অতীতে পরিবর্ধন যখন হওয়ার ছিল, তখন হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে সামাজিক ও প্রযুক্তিগত বিকল্পগুলোর এত বেশি হারে উত্তব হচ্ছে যে, পরিবর্তনকে নিরবচ্ছিন্নভাবে সামাল দিতে হচ্ছে। এই পরিবর্তনের ব্যাপকতা অতীতে যে-কোনো সময়ের থেকে ভিন্ন।

এই পরিবর্তনকে বৈপ্লবিক বা বিবর্তনমূলক—যাই বলা হোক, তাতে কিছু আসে যায় না। আসল প্রশ্নটি হল এই যে, এই ধরনের পরিবর্তন সমাজে গ্রন্থাগারের ভূমিকাকে কতখানি প্রভাবিত করবে।

অডিও-ভিসুয়াল, টেলিভিশন, মাইক্রোফিল্ম, কম্পিউটার যোগাযোগ ইত্যাদি নতুন মাধ্যমগুলি গ্রন্থকে প্রতিযোগিতার মুখে দৌড় করিয়েছে। তথ্য উৎপাদন এত দ্রুতগতিতে হচ্ছে যে, গ্রন্থাগার তা সংগ্রহ ও সংগঠিত করে উঠতে পারছে না। বাণিজ্যিক সংস্থাগুলি তথ্য ব্যবসায় অবতীর্ণ হচ্ছে।

ক্যাটালগের জায়গা নিচ্ছে ডাটাবেস। যোগাযোগ চ্যানেলগুলি আরও বিস্তৃত জায়গা জুড়ে তথ্য পরিবেশন করছে। আসলে, তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির দরুন পরিবর্তনের গতি এত বেড়েছে যে, গ্রন্থাগার পরিবেশের উপর এর সম্ভাব্য অনুমান করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এক সময়ে গ্রন্থাগারগুলি এক বিশাল, স্বনির্ভর সংগ্রহ রাখার চেষ্টা করত। বর্তমান যুগে অর্থনৈতিক বিচারে এই উদ্দেশ্য অবাস্তব। কারণ, “তথ্য বিস্ফোরণ” এখনো সীমিত হয়ে যায়নি।

ফিল্ম, মাইক্রোফিল্ম, কম্পিউটার টেপ, ভিডিও টেপ, সিডি-রমের মতো গ্রন্থ, জার্নাল, কারিগরি প্রতিবেদন, সভা বিবরণী ইত্যাদিতে তথ্যের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। গ্রন্থাগার একদিন স্বনির্ভর হয়ে উঠবে, এই মহান স্বপ্ন আর বাস্তবোচিত নয়।

এখন তার জায়গা নিয়েছে নেটওয়ার্কের ধারণা, যাতে গ্রন্থাগারগুলি একটি বহির্বিশ্ব সমবায় গড়ে তুলবে এবং নতুন তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে তাদের সম্পদ আদানপ্রদান করবে। অতীতে গ্রন্থাগার ছিল কোনো নিজস্ব সংগ্রহে পৌঁছানোর এক প্রবেশ পথ। তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে আজ সে হয়ে উঠেছে বিশ্বব্যাপী জ্ঞানকে অবলোকন করার এক জানালা।

গ্রন্থাগারিকেরা সাধারণত নিজেদের তথ্য সরবরাহকারী হিসেবে দেখেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে গ্রন্থাগার যতটা তথ্য সরবরাহকারী, তার থেকে অনেক বেশি মোটা মোটা গ্রন্থের ভান্ডার। সে যাই হোক না কেন, গ্রন্থাগারের শেলফে রাখা লক্ষ লক্ষ পাতার ভিতর জমে থাকা তথ্যের সিংহভাগই হয়তো আদৌ ব্যবহৃত হয় না।

বাণিজ্যিক ভাষায় বলা যেতে পারে লেনদেনের পরিমাণ অত্যন্ত কম। কিন্তু তা সত্ত্বেও, সময়ের সাথে সাথে আরও গ্রন্থাগারের প্রয়োজন কথা মনে নেওয়া হচ্ছে এবং গ্রন্থাগার স্থাপনের কাজও অব্যাহত রয়েছে। পেশাদার মানুষদের মূলত তথ্য নিয়ে কাজ করতে হয়।

প্রত্যেকটি কাজের দিন তারা তথ্য গ্রহণ করেন, সেগুলি নিয়ে কাজ করেন, তার সাথে মূল্য যুক্ত করেন এবং সমাজের প্রয়োজন ও চাহিদা অনুযায়ী উচ্চমানের, উপযুক্ত তথ্যের জোগান দেন। কিন্তু কাজ করতে বা সিদ্ধান্ত নেবার আগে, কয়জন ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসক, আইনজীবী বা ম্যানেজার তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গ্রন্থাগারে আসেন?

১৯৮৩ সালে প্রকাশিত ‘অটোমেশনের’ পূর্ণমুদ্রিত সংস্করণের ভূমিকায় জন ডিবোল্ড স্বয়ংক্রিয়তার তিনটি স্তরের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রথম স্তরে আপনি গতকাল যা করেছিলেন, তা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে করেন। দ্বিতীয় স্তরে আপনি লক্ষ্য করেন যে এই পরিবর্তন জন্ম দিয়েছে সবথেকে বড় এক পরিবর্তনের। এই পরিবর্তন হল সমাজের রূপান্তর।

নিজস্ব পরিবেশ ও তথ্য পরিবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গ্রন্থাগারগুলিকে নিজেদের মধ্যে ও বাণিজ্যিক মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে বাধ্য করা হচ্ছে, চল্লিশ বছর আগে প্রাক-বৈদ্যুতিন যুগে আন্ত:গ্রন্থাগারিক লেনদেন ও নথি সরবরাহের একমাত্র বা প্রাথমিক উৎস হিসেবে গ্রন্থাগারের যা ভূমিকা ছিল, বিকাশশীল দেশগুলিতে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে তা ক্রমশই অন্যান্য তথ্য-কারবারিদের হাতে চলে যাচ্ছে।

গ্রন্থাগার নিয়ে এই ধরনের বাণিজ্যিক ও প্রতিযোগিতামূলক কাজকর্মের সূচনা হয়েছিল বাটার দশকের নতুন প্রযুক্তির উত্থানের সাথে সাথে।

গত চার দশক ধরে গ্রন্থাগারগুলির উপর এইসব শক্তির কী প্রতিক্রিয়া হয়েছে, তা সংক্ষেপে তিনটি শব্দে বলা যায় : স্বশাসন, সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতা। প্রযুক্তি শুধুমাত্র গ্রন্থাগার এবং তথ্যের পরিবেশকেই পাল্টে দিচ্ছে না, তা রূপান্তর ঘটাচ্ছে আমাদের সমগ্র সমাজের।

ভবিষ্যতের ছবি

গ্রন্থাগারের এক বিশেষ দায়িত্ব হল প্রযুক্তির পরিবর্তনকে সমাজের মজ্জায় মজ্জায় এমনভাবে মিশিয়ে দেওয়া, যাতে সে এই কাজগুলো করতে সক্ষম হয় :

  • (ক) তথ্য পরিষেবাকে আরো বিস্তৃত ও ব্যক্তিমুখী করা
  • (খ) অন্যান্য গ্রন্থাগার ও ব্যবহারকারীদের সংযোগ যোগাযোগের পদ্ধতিকে আরো উন্নত করে তোলা ;
  • (গ) তার অভ্যন্তরীণ কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে তোলা ।

তথ্যনির্ভর সমাজে ব্যবহারকারীদের চাহিদা মেটাবার জন্য প্রযোজন কমপিউটার চালিত তথ্য ব্যবস্থা, তথ্যের বিশ্লেষণ, সেগুলিকে ঘনীভূত ও পুনর্বিন্যাস করা। গ্রন্থাগারকে কোনো জাতীয় নেটওয়ার্কের মূল সংযোগবিন্দু হিসাবে দেখা হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে, গ্রন্থাগারের সামাজিক দায়িত্ব এখনকার থেকে অনেক বেড়ে যায় ।

অন্যাভাবে বলতে গেলে, ভবিষ্যতে গ্রন্থাগার শুধুমাত্র মুদ্রিত শব্দের এক স্থানু ভান্ডার হিসাবে সীমাবদ্ধ থাকতে পারবে না । গ্রন্থাগার হয়ে উঠবে সমস্ত রকম শৈলীতে (format) সমস্ত রকম জ্ঞানে নাগাল পাবার জন্য মানুষের প্রধান যোগাযোগ ব্যবস্থা ।

প্রত্যাশিতভাবে যদি আমাদের অবকাশের সময় বেড়ে যেতেই থাকে, তাহলে বাড়বে বিনোদনমূলক পড়ার চাহিদা, বাড়বে গবেষক ও তথ্যসন্ধানী শিক্ষার্থীর সংখ্যা, বাড়বে স্থানীয় নথিপত্রের মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের খুঁজে বের করতে চাওয়া মানুষের সংখ্যা। বাণিজ্যিক সংস্থাগুলিও অতি দ্রুত তথ্যের সন্ধানে নেমে পড়বে।

মানুষের পড়ার ব্যাপারটি মনে রাখা । বঞ্চিত মানুষের সাহায্য করার দিকটিও গ্রন্থাগারকে খেয়াল রাখতে হবে । তথ্যের জন্য সেইসব মানুষদের বিশেষ চাহিদা মেটাতে হবে এবং অন্যান্যদের মতো তাদের বিনোদনের সুযোগ দিতে হবে ।

মানুষের প্রকৃত প্রয়োজন সঞ্চয় তথ্যের মেলবন্ধন ঘটাতে আমরা যতই সফল হই না কেন, আমরা যেন একথা কখনোই বিস্মৃত না হই যে, যতই বিপুল আয় সুবিধাজনক হোক, সুন্দরছাড়া তথ্য আসলে অন্ধ । আমাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য হওয়া উচিত, তথ্যের সুত্র খুঁজে বের করা, যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে তথ্য অগ্রসর ও পরিবর্তিত হয়, তার উপর আলোকপাত করা ।

এছাড়া আমাদের অবশ্য কর্তব্য হল তথ্যকে আবার মানবিক রূপ দেওয়া, তাকে পঙ্কিলতার নয়, আলোকের উৎসে পরিণত করা । আমরা নিজেরা কোনো বিষয় না বুঝতে পারি, কিন্তু আমরা বিষয়টিকে অন্যান্যদের কাছে এমনভাবে পৌঁছে দিতে পারি যাতে তারা এটি বুঝতে অক্ষম হয় । প্রযুক্তিবিদ গ্রন্থাগারিক তথ্যকে সবার কাছে এগিয়ে দেবেন, মানবতাবাদী গ্রন্থাগারিক তথ্যকে সমাজের উপকারের জন্য ব্যবহার করতে উপদেশ দেবেন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *