ভূমিকা (Introduction of database models)

বিভিন্ন কাজের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ডেটা তৈরি হয়। একই সম্পর্কযুক্ত ডেটাগুলিকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ বা সংগ্রহকেই আমরা ডেটাবেস বলতে পারি। এই ডেটাবেস থেকেই প্রয়োজনীয় ইনফরমেশন খুব দ্রুত খুঁজে পাওয়া যায়।

উদাহরণস্বরূপ কোনো School এর ডেটাবেস এর ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের নাম, ক্লাস, রোল নাম্বার, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নাম, অন্যান্য কর্মীদের নাম ইত্যাদি লিপিবদ্ধ করতে হয়। এখান থেকে প্রয়োজন অনুসারে স্কুল সম্পর্কে সঠিক ডেটা বা তথ্য পাওয়া যায়।

ডেটাবেস কি (database models)| সুবিধা ও অসুবিধা|এর বিভিন্ন ভাষা বা উপাদান সমূহ

কোনো স্কুলের ডেটাবেস থেকে ঐ স্কুলের রেজাল্ট বা বার্ষিক মূল্যায়ন করতে হলে স্কুলের প্রতিটি ক্লাসে কতজন শিক্ষার্থী আছে, তারা কোন কোন বিষয়ে কত মার্কস পেয়েছে, তাদের সমগ্র মার্কস যোগ করে দেখা যায় কতজন কৃতকার্য হয়েছে, কতজন অকৃতকার্য হয়েছে ইত্যাদি তথ্য সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা যায়।

ডেটাকে সঠিকভাবে সংগ্রহ করে ডেটাবেস তৈরি করা অনেকটা লাইব্রেরীতে বই রাখার মতো। ইনডেক্স এর সাহায্যে বিভিন্ন আলমারিতে যেমন নির্দিষ্ট তাক (Self) এ বইগুলো রাখা হয় যাতে প্রয়োজন অনুসারে তৎক্ষণাৎ বইটি পাওয়া যায় ডেটাবেসের কাজটিও ঠিক সেই রকম।

ডেটাবেস-এর সংজ্ঞা (Defination of database models)

ডেটাবেস হল পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত তথ্যের সুসংহত সংরক্ষণ বা সংগ্রহ। যেমনঃ রেলওয়ে রিজার্ভেশন ইনফরমেশন, টেলিফোন ডাইরেক্টরি, কোম্পানির পে-রোল সিস্টেম ইত্যাদি এক-একটি ডেটাবেসের উদাহরণ। ডেটাবেস পরিচালন ব্যবস্থা অর্থাৎ Database Management System (dbs full form ) সংক্ষেপে DBMS নামে পরিচিত।

ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের সুবিধা ও অসুবিধা (Advantages & Disadvantages of DBMS)

ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের সুবিধা ( Advantages of database management system)

  • Redundant data বা Data-র পুনরাবৃত্তি দূর করা যায়।
  • DBMS-এ প্রতিটি তথ্যের বা ডেটার নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বজায় থাকে।
  • প্রতিটি ডেটার মৌলিকত্ব বা ইন্ডিপেন্ডেন্সি বজায় থাকে।
  • অবৈধ ডেটা এক্সেস করতে বাধাদান করে।
  • ডেটার প্রতিলিপি বা ব্যাক-আপ রাখা যায়— যা থেকে ডেটা পুনরুদ্ধার সম্ভব।
  • একই সঙ্গো বহু ব্যবহারকারী একই ডেটাবেস নিয়ে কাজ করতে পারে।
  • ডেটাবেস ব্যবহারের ফলে সময় ও আর্থিক সাশ্রয় হয়।
  • ডেটা যোগ করা ও ডেটা সংশোধন করা যায় ফলে সর্বসময় আধুনিক তথ্য পাওয়া যায়।
  • ডেটা তথা ফাইলে নিঁর্ভুলতা (Accuracy) রক্ষা করে।

ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের অসুবিধা (Disadvantages of database management system)

  • DBMS এর প্রধান অসুবিধা হল এই সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, সিস্টেম ডিজাইনার, ডেটাবেস ডিজাইনার ও ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের প্রত্যেককে সঠিকভাবে দক্ষ হতে হয়। না হলে সম্পূর্ণ সিস্টেমটি অথহীন হয়ে পড়ে।
  • সিস্টেমটি সর্বদাই ব্যস্ত থাকে। কারণ সর্বসময় তথ্যকে আধুনিকীকরণ (Update) করতে হয়।
  • সিস্টেম নিয়ে সর্বদা ব্যস্ত থাকতে হয় এবং রেকর্ডগুলি কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে যে কেউ সেটি পরিবর্তন করতে পারে না।
  • এই সিস্টেমটি যথেষ্ট ব্যয়বহুল।
  • এটি যথেষ্ট জটিল প্রক্রিয়া, তাই ডেটা ব্যাক-আপ ও ডেটার পুনরুদ্ধার বা রিকভারি করাও যথেষ্ট কঠিন কাজ।

ডেটাবেস-এর ভাষাসমূহ (database management system with example)

DBMS একটি জটিল সিস্টেম হলেও ডেটাবেস সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে বিশেষ সুবিধা প্রদান করে। DBMS-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হল ডেটাবেস ব্যবহারকারীদের জন্য বিভিন্ন ভাষা ব্যবহার করার সুবিধা প্রদান। DBMS-এর ভাষাগুলি (Languages) সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হল।

1. ডেটা ডেফিনেশন ল্যাংগুয়েজ (Data Defination Language)

DBMS-এ ডেটা সংরক্ষণ করার জন্য মূলত ডেটা ডেফিনেশন ল্যাংগুয়েজ (DDL) ব্যবহারিত হয়। এছাড়া ডেটাবেস টেবিলের সংজ্ঞা বা স্কিমা নির্ধারণেও এই ল্যাংগুয়েজ ব্যবহৃত হয়। তাই ডেটা ডেফিনেশন ল্যাংগুয়েজের ব্যবহারে আমরা SQL (Structured Query Language)-এ বিভিন্ন রকম ডেটাবেস অবজেক্ট তৈরি, পরিবর্তন বা মুছে দেওয়ার কাজ করতে পারি।

যেমন- Table field and index Create, Alter, Drop, Rename ইত্যাদি। ডেটা ডেফিনেশন ল্যাংগুয়েজ স্টেটমেন্টগুলি (SQL Statement) কিভাবে ডেটাবেস স্ট্রাকচার ও স্কিমা নির্ধারণে ব্যবহৃত হয় তা নিচে দেখানো হল-

(i) Create স্টেটমেন্ট :- Create স্টেটমেন্ট দ্বারা টেবিল ও ইনডেক্স তৈরি করা যায়।

(ii) Alter স্টেটমেন্ট :- Alter স্টেটমেন্টের সাহায্যে টেবিলের কোনো ডেটাবেস স্ট্রাকচারের পরিবর্তন করা যায়। যেমন : Alter ব্যবহার করে টেবিলে নতুন কলাম সংযোজন করা যায়।

(iii) DROP Stetment :- ডাটাবেস টেবিলের কোনো ডেটাকে মুছে ফেলতে স্টেটমেন্ট ব্যবহৃত হয়।

(iv) RENAME স্টেটমেন্ট :- ডাটাবেস টেবিলের কোনো নামের পরিবর্তন করতে স্টেটমেন্ট ব্যবহৃত হয়।

2. ডেটা ম্যানিপুলেশন ল্যাংগুয়েজ (Data Manipulation Language)

ডেটা ম্যানিপুলেশন ল্যাংগুয়েজের কাজ হল ডেটাবেসে পূর্বে সংরক্ষিত ডেটা পড়া, ডেটাবেসে নতুন তথ্য সংযোজন, বিশ্লেষণ ও অপ্রয়োজনীয় তথ্য মুছে ফেলা ইত্যাদি। বর্তমানে প্রায় সমস্ত ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে ডেটা ম্যানিপুলেশন ল্যাংগুয়েজ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

এর ডেটা ম্যানিপুলেশন ল্যাংগুয়েজের স্টেটমেন্টগুলি সম্পর্কে নীচে আলোচনা করা হল-

(i) SELECT স্টেটমেন্ট :- ল্যাংগুয়েজে ডেটা নির্বাচন করার জন্য স্টেটমেন্ট ব্যবহার করা হয়। যেমন-

(ii) INSERT স্টেটমেন্ট :- কোনো টেবিলে নতুন রেকর্ড (Record) সংযোজন করার জন্য স্টেটমেন্টটি ব্যবহৃত হয়। যেমন-

database models

(iii) UPDATE স্টেটমেন্ট :- কোনো টেবিল থেকে এক বা একাধিক রেকর্ড (Record) সংশোধন করার জন্য Update স্টেটমেন্টটি ব্যবহৃত হয়।

(iv) DELETE স্টেটমেন্ট :- কোনো টেবিল থেকে এক বা একাধিক রেকর্ড (Record) মুছে ফেলার জন্য Delete স্টেটমেন্টটি ব্যবহৃত হয়।

3. ডেটা কন্ট্রোল ল্যাংগুয়েজ (Data Control Language) :

ডেটা কন্ট্রোল ল্যাংগুয়েজের মূল কাজ হল ডেটাবেস-এর ডেটার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা। ORACLE ডেটাবেস সিস্টেমের মতো মাল্টি-ইউজার সিস্টেমে নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেক্ষেত্রে ডেটা কন্ট্রোল ল্যাংগুয়েজ স্টেটমেন্টগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

আবার SQL-এর ক্ষেত্রে ডেটা কন্ট্রোল ল্যাংগুয়েজের স্টেটমেন্টগুলোর দ্বারা ব্যবহারকারীকে ডেটা ব্যবহার করার অধিকার দেওয়া এবং তা ফিরিয়ে নেওয়া অর্থাৎ অধিকার নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা জন্মায়। মূল ডেটা কন্ট্রোল ল্যাংগুয়েজ স্টেটমেন্টগুলো হল

(i) GRANT স্টেটমেন্ট :- ব্যবহারকারীকে ডেটাবেস ব্যবহার করার অধিকার প্রদান করে।

(ii) REVOKE স্টেটমেন্ট :- GRANT স্টেটমেন্ট দ্বারা প্রদেও ডেটাবেস ব্যবহারের অধিকার ফিরিয়ে (Withdraw) নেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *