ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকে (database management system) সংক্ষেপে DBMS বলা হয়ে থাকে। নিচে ডেটাবেস স্কিমা কি, ডাটা ডিকশনারি কি, মেটাডাটা কি, ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের উপাদানসমূহকে উদাহরণসহ (database management system with example) আলোচনা করা হয়েছে।

ডেটা ডিকশনারি ও মেটাডেটা (Data Dictionary and Meta Data)
ডেটা ডিকশনারি :– ডেটা ডিকশনারি হল DBMS-এর একটি বিশেষ ফাইল বা অভিধান যেখানে সমস্ত ফাইলগুলোর তালিকা, ফিল্ডের নাম ও ধরন, রেকর্ড সংখ্যা ইত্যাদি বইয়ের সূচিপত্রের ন্যায় সংরক্ষিত থাকে যাতে প্রয়োজন অনুসারে ডেটাবেস থেকে ডেটা পাওয়া যায়।
ডেটাবেস যেহেতু তথ্যাদির একটি বিশাল ভাণ্ডার সেই কারণেই তথ্যাদি সুসংহত ও সুশৃঙ্খল রাখা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনই তথ্যাদি সম্পর্কিত নোট বা পয়েন্ট সূচী আকারে রাখাও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ডেটা ডিকশনারিতে তাই ক্রমাবদ্ধভাবে নির্দিষ্ট নিয়ম ও সূচী মেনে ফাইলগুলোর পরিচয় সূচিপত্র আকারে রাখা হয়।
যার ফলে ফাইলগুলো পরিচয় জ্ঞাপক সূচীপত্র এক নজরেই পাওয়া যায়। তবে মনে রাখতে হবে ডেটাবেসের প্রকৃত ডেটা, ডেটা ডিকশনারিতে থাকে না। আবার ডেটা ডিকশনারি ছাড়াও DBMS ডেটাবেস থেকে ডেটা এক্সেস করতে পারে না।
বেশিরভাগ DBMS-এর ক্ষেত্রেই ডেটা-ডিকশনারি নিরাপত্তার কারণে গোপন ফাইল (Hidden File) হিসেবে থাকে।
মেটাডেটা :– ডেটাবেস-এর একটি বৈশিষ্ট্য হল, এটি শুধুমাত্র ডেটাবেসকেই ধারণ করে না, ডেটাবেসের গঠন (Structure) সম্পর্কেও বর্ণনা ও ব্যাখ্যা করে। এই বর্ণনা ডেটা ডিকশনারিতে জমা থাকে যেখানে ফাইলের গঠন, ধরণ এবং ডেটা ডিকশনারিতে সংরক্ষিত রাখার ফরম্যাট ইত্যাদি সংক্ষিপ্তাকারে থাকে। ডেটাবেসের মধ্যে ডেটা ডিকশনারিতে সংরক্ষিত এই সমস্ত তথ্যকে মেটাডেটা (Meta Data) বলে।
ডেটাবেস স্কিমা ও তার বিভিন্ন উদাহরণ (database schema sample and Instance) :
ডেটাবেস স্কিমা : ডেটাবেস প্রস্তুত করার সময় ডেটাবেস ডিজাইনাররা (Designers) ডেটাবেস বর্ণনার একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত করেন। একেই ডেটাবেস স্কিমা বলে।
ডেটাবেস ইনস্ট্যান্স : কোনো মুহূর্তে ডেটাবেস থেকে প্রাপ্ত ডেটার সমগ্র চিত্রটিকে ওই মুহূর্তের ডেটাবেস ইন্সট্যান্স বলা হয়। ডেটাবেস ইলট্যান্স সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।
প্রকৃতপক্ষে ডেটাবেস প্রস্তুতির সময় একটি আর্কিটেকচার-এর প্রস্তাব করা হয়েছিল যা বর্তমানে সমস্ত ডিবিএমএস সিস্টেম সমর্থন করে। এই আর্কিটেকচার কতগুলি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর লক্ষ্য রেখে তৈরি করা হয়েছিল, সেগুলি হল— ডেটার নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার সুবিধা, ডেটার স্বাতন্ত্র্য বৃদ্ধি, ডেটা সংস্থয়ের সুবিধা।
এই আর্কিটেকচার স্তরের উপর ভিত্তি করে স্কিমাকে দুটি স্তরে ভাগ করা হয়।
(i) ফিজিক্যাল স্কিমা (Physical Schema) : এখানে Data কি ধরনের স্টোরেজ মাধ্যমে কত পরিমাণ Memory অধিকার করে সংরক্ষিত থাকবে তা নির্ধারণ করা হয়। তবে এই স্তর সাধারণ ব্যবহারকারী ও প্রোগ্রামারদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে।
(ii) লজিক্যাল স্কিমা (Logical Schema) : Data item ও Data type কি হবে বিভিন্ন প্রকার record-এর পারস্পরিক রিলেশন (relation) কি হবে ইত্যাদি লজিক্যাল স্কিমা স্থির করে।
এই দুই প্রকার স্কিমা ছাড়াও View Level-এ এক ধরনের স্কিমা গঠন করা হয় যাকে Sub-Schema বলে। প্রোগ্রামার ও ডেটাবেস অ্যাডমিনিস্ট্রেটররা (DBA) এই স্তরে কাজ করে।
ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং তার উপাদান সমূহ (Database Management System and Its Components) :
ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম হল পরস্পরের সম্পর্কযুক্ত তথ্য এবং সেই তথ্যের পর্যালোচনা করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোগ্রামের সমস্তি।
ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের প্রাথমিক লক্ষ্য হল ডেটাবেসের তথ্যগুলি সংরক্ষণ সহজতর করা এবং তার ব্যবহারের সহায়তা প্রদান করা।
প্রকৃতপক্ষে, ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কোনো ডেটাবেস নয় এটি একটি সফটওয়্যার বা প্রোগ্রাম। বর্তমানে অনেক ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কম্পিউটারে ব্যবহার করা হয়। যেমন : dBase, Foxpro, MS-Access ইত্যাদি।
ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের কাজ :–
- ১. ডেটাবেসের জন্য প্রয়োজনীয় টেবিল তৈরি করা এবং সেই টেবিলে ডেটা এন্ট্রির ব্যবস্থা করা।
- ২. টেবিলগুলিকে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত করা।
- ৩. টেবিলে ডেটা এডিট করা।
- ৪. বিভিন্ন টেবিল থেকে প্র প্রয়োজনীয় ইনফর্মেশন খুঁজে বের করা।
- ৫. একসঙ্গে অনেক ব্যবহারকারীকে ডেটা ব্যবহার করার সুবিধা প্রদান করা।
- ৬. ডেটাকে সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করা।
ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম-এর উপাদানসমূহ (Components of Database Management System and Its Components) 🙂 :
ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এর স্ট্রাকচার তৈরি করার জন্য বিশেষ কিছু উপাদান (Component)-এর প্রয়োজন । নীচে এর প্রধান প্রধান উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হল –
A) ডেটাবেস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর (Database Administrator) :
ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে ব্যবহৃত সমস্ত ডেটাবেস ও তার সাথে যুক্ত সমস্ত প্রোগ্রামগুলিকে যে ব্যক্তি কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে তাকে ডেটাবেস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর (Database Administrator) বলা হয়।
ডেটাবেস অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের মূল কাজ হল ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকে যথাযথভাবে পরিচালনা করা। যেমন বিভিন্ন ব্যবহারকারীর প্রয়োজনীয় ইনফরমেশন সংগ্রহ করা, যে সকল ডেটা সংগ্রহ করা প্রয়োজন তা শনাক্ত বা চিহ্নিত করা, ডেটাকে আদর্শায়ন করা ইত্যাদি হল ডেটাবেস অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের অন্যতম দায়িত্ব বা কাজ।
ডেটাবেস অ্যাডমিনিস্ট্রেটরকে ডেটার নিরাপত্তা ও বৈধতা রক্ষার দায়িত্ব নিতে হয়। তাই DBMS ব্যবহারকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার নির্বাচন করতে হয়।
নীচে ডেটাবেস অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের কাজ
- (i) বিভিন্ন ডেটাবেস ব্যবহারকারীকে বিভিন্ন কাজের জন্য অনুমতি প্রদান করা।
- (ii) বিভিন্ন ডেটাবেস ব্যবহারকারীর জন্য প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার নির্বাচন করা।
- (iii) কি প্রকার ডেটা ডিভাইস সঞ্চিত থাকবে এবং এই ডেটাগুলি কীভাবে ব্যবহৃত হবে তা স্থির করা।
- (iv) ডেটার নিরাপত্তা ও বৈধতা রক্ষার দায়িত্ব নেওয়া।
- (v) ডেটাবেস ব্যবহারকারীদের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে সন্তুষ্ট ডেটার আদর্শায়ন, নিয়মিতভাবে ডেটাবেসের ব্যাক আপ (Backup) নেওয়া, ডিস্কের প্রয়োজনীয় স্থান খালি করা এবং ডেটাবেসের যাবতীয় কাজ তত্ত্বাবধান করাই ডেটাবেস অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের কাজ।
- (vi) ডেটাবেস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর Data Definition Language (DDL)-এর নির্দেশ ব্যবহার করে মূল ডেটাবেসের গঠন বা ডেটাবেস স্কিমা তৈরি করে।
B) ডেটাবেস ম্যানেজার (Database Manager) :
ডেটাবেস ম্যানেজার কোনো ব্যক্তি নয়, এটি একটি প্রোগ্রাম। এর কাজ হল ডেটাবেসে সঞ্চিত ডেটা, সিস্টেমের বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম ও বিভিন্ন কোয়াইরির মধ্যে একটি যোগসূত্র গঠন করা। ডেটাবেস ম্যানেজার ফাইল ম্যানেজারের সাথে যুক্ত হয়ে অপারেটিং সিস্টেমের নির্ধারিত ফাইল সিস্টেম অনুযায়ী ডিস্কে সঞ্চিত মূল ডেটাকে পরিচালনা করে। এছাড়াও ডেটাবেস ম্যানেজার Data Manipulation Language-এর নির্দেশকে Low Level ফাইল সিস্টেমেও রূপান্তরিত করে।
ডেটাবেস ম্যানেজারের বিশেষ বিশেষ কাজ নিচে দেওয়া হল –
- (i) ডেটাকে অক্ষুন্ন রাখা ও ডেটার নিরাপত্তা প্রদান করা।
- (ii) ডেটা ব্যাক-আপ (Backup) ও ডেটা রিকভারি বা পুনরুদ্ধার করা।
- (iii) ডেটার অখণ্ডতা ও স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখা।
C) ট্রানজাকশন ম্যানেজার (Transaction Manager) :
ডেটাবেস ঠিকমতো যাথার্থ অবস্থানে সংরক্ষণ করা হয়েছে কিনা তা লক্ষ্য রাখে। ট্রানজাকশন ম্যানেজারের কাজ। DBMS এর অন্য কাজে কোনোরূপ ব্যাঘাত না ঘটেই ট্রানজাকশন ম্যানেজার তার কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করে।
D) ফাইল ম্যানেজার (File Manager) :
স্টোরেজ ডিভাইসগুলিতে (যেমন : হার্ড ডিস্ক, ফ্লপি ডিস্ক, সিডি ইত্যাদি) ডেটাবেস-এর জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা নির্বাচন করাই ফাইল ম্যানেজারের কাজ । ফাইলের জন্য উপযুক্ত স্ট্রাকচার গঠন এবং তার জন্য ডেটাবেসে প্রয়োজনীয় জায়গা নির্বাচন ইত্যাদি কাজগুলির দায়িত্ব হল ফাইল ম্যানেজারার।
E) ডিস্ক ম্যানেজার (Disk Manager) :
ডিস্ক ম্যানেজারের কাজ হল স্টোরেজ ডিভাইসগুলি থেকে (অর্থাৎ হার্ড ডিস্ক, ফ্লপি ও সিডি ইত্যাদি থেকে) ডেটাকে অথবা ফাইলকে মূল মেমোরিতে রাখা এবং কোন ডেটাকে ক্যাশ মেমোরিতে পাঠাতে হবে তা নির্বাচন করা । ডিস্ক ম্যানেজার ইনপুট আউটপুটের কাজগুলো সম্পন্ন করে থাকে। ফাইল ম্যানেজার যে সকল ফাইলকে চেয়ে পাঠায় স্টোরেজ মিডিয়া থেকে সেগুলি পরিবহন করে নেয়া ও ডিস্ক ম্যানেজারের কাজ ।
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার (Software Engineer) :
সিস্টেম বিশ্লেষক (System Analyst) এবং প্রোগ্রামারদের DBMS-এর সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বলা হয়। এদের কাজ হল DBMS ব্যবহারকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী সিস্টেম নির্ধারণ করা । সেই সিস্টেম অনুযায়ী অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামরগণ বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম তৈরি করে যার দ্বারা প্রান্তিক ব্যবহারকারীরা ডেটাবেস এক্সেস করে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদন করে।
প্রান্তিক ব্যবহারকারী (End User) :
যাদের জন্য এই DBMS প্রস্তুত করা হয় সিস্টেমের শেষ প্রান্তে এরাই অবস্থান করে। প্রান্তিক ব্যবহারকারী হল সেই সকল ব্যক্তি যারা নিজেদের কাজের জন্য ডেটাবেস এক্সেস করে অর্থাৎ ডেটাবেসে প্রবেশ করে কোয়েরী, টেবিল, রিপোর্ট প্রস্তুতির মাধ্যমে নিজেদের প্রয়োজন সম্পন্ন করে।